Logo Logo

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় সরকারি বিপুল পরিমাণ পাঠ্যপুস্তক বিনা অনুমতিতে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসার দপ্তরীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দপ্তরী শহীদুল ইসলাম দিরাই পৌর শহরের হাজী মাহমদ মিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় কর্মরত বলে জানা গেছে।


Splash Image

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় সরকারি বিপুল পরিমাণ পাঠ্যপুস্তক বিনা অনুমতিতে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসার দপ্তরীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দপ্তরী শহীদুল ইসলাম দিরাই পৌর শহরের হাজী মাহমদ মিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় কর্মরত বলে জানা গেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে মাদ্রাসার একটি কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি পাঠ্যপুস্তক ভ্যানগাড়িতে তুলে ভাঙারির দোকানে পাঠানোর সময় বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজন যুবকের নজরে আসে। সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত দপ্তরী শহীদুল ইসলাম বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সংশ্লিষ্ট যুবকদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। তবে যুবকরা তার প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বরং বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানিয়ে দেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে।

পরবর্তীতে বাগবাড়ী গ্রামের লোকজন ভাঙারি ব্যবসায়ী রফিকুল মিয়ার দোকানে গিয়ে বিক্রয়কৃত বইগুলো উদ্ধার করেন। জানা যায়, সেখান থেকে ৪টি বস্তাভর্তি প্রায় ৩শ কেজি সরকারি পাঠ্যপুস্তক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত বইগুলো নিজেদের হেফাজতে নেয় এলাকাবাসী। এসব বই ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের (যদিও কিছু সূত্রে ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে) সরকারি পাঠ্যপুস্তক বলে জানা গেছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ ছিল।

ভাঙারি ব্যবসায়ী রফিকুল মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “মাদ্রাসার দপ্তরী শহীদুল ইসলাম আমার কাছে বইগুলো বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে আমি ভ্যান নিয়ে মাদ্রাসায় যাই এবং তার কাছ থেকে বইগুলো কিনে নিয়ে আসি। আমি জানতাম না এগুলো এভাবে বিক্রি করা বেআইনি।”

অভিযুক্ত দপ্তরী শহীদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সরাসরি সাক্ষাৎ করে কথা বলবেন।

এ বিষয়ে হাজী মাহমদ মিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে অবহিত করেছি। এ বিষয়ে জরুরি সভা আহ্বান করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সনজীব সরকার বলেন, “সরকারি বই বিক্রির অভিযোগটি আমি অবগত হয়েছি। এটি গুরুতর অপরাধ। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে, বই বিক্রির ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাগবাড়ী গ্রামের বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি শিক্ষাসামগ্রী বিক্রি করে দেওয়ার মতো ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম আর না ঘটে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...