বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া এলাকার একটি আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শেখ রাজু ইসলাম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মউতলা গ্রামের নুরুল ইসলাম শেখের সন্তান। কর্মস্থল ভিন্ন হলেও স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রাজুর স্ত্রী হ্যাপি আক্তার ভাঙ্গার আতাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। সাপ্তাহিক ছুটিতে গতকাল শুক্রবার রাজু ইসলাম পরিবারের কাছে আসেন। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে নিচে নামিয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
নিহতের চার বছর বয়সী শিশুকন্যা আমেনা আক্তার জানায়, তার বাবা প্রথমে তার পাশেই শুয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর তাকে পাশে না দেখে সে পাশের রুমে গিয়ে বাবাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পায়। নিহতের স্ত্রী হ্যাপি আক্তার জানান, দুপুর একটার দিকে তিনি বাসা থেকে সন্তানদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত বাড়ি ফিরে স্বামীর নিথর দেহ দেখতে পান।
নিহতের যমজ ভাই শেখ আব্দুর রাজ্জাক জানান, মায়ের ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং কিছুক্ষণ পরেই ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পান। আকস্মিক এই ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এটি আত্মহত্যা কি না বা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...