বিজ্ঞাপন
গত শুক্রবার (১ মে, ২০২৬) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ১২৭ সদস্যবিশিষ্ট ববি ছাত্রদলের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন। এই কমিটিতে সহ-সভাপতি ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তত ২০-২৫ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ কর্মীদের উদ্ধারে যারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদেরও কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত ও বিভিন্ন আলোকচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪নং সহ-সভাপতি মিঞা বাবুল, ৩নং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ তাকভীর সিয়াম, প্রিতম দাস ও বর্ণ বরন সরকারসহ দীর্ঘ তালিকায় ছাত্রলীগের একাধিক সক্রিয় সদস্যের নাম রয়েছে। এছাড়াও ধর্মীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদের মতো জায়গায় বিতর্কিতদের পদায়ন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত এই পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “কমিটিতে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের সংখ্যা অনেক। এখানে সিনিয়র-জুনিয়র কোনো শৃঙ্খলা মানা হয়নি। এমনকি কমিটি গঠনের সময় স্থানীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি।”
অন্যদিকে, কমিটি গঠনের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক তারেক হাসান দাবি করেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যাদের অবদান ছিল এবং যারা বিতর্কের ঊর্ধ্বে, তাদেরই পদ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতাদের সাথে পরামর্শ করেই কমিটি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমরা যে সুপারিশকৃত তালিকা পাঠিয়েছিলাম, ঘোষিত কমিটির সাথে তার ৯০ শতাংশ মিল নেই। এটি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিমের একক সিদ্ধান্ত। আমরা দ্রুত কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করেছি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। যদি কেন্দ্র ব্যবস্থা না নেয়, তবে আমরা আমাদের নিজস্ব ক্ষমতাবলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”
ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করে অন্য আদর্শের কর্মীদের পুনর্বাসিত করার এই চেষ্টা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক তোলপাড় চলছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...