বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে কবির পৈতৃক ভিটায় এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
বিপ্লবী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে এবং মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে মেলার শুভ সূচনা করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকউজ্জামান এবং কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন কোটালীপাড়া আদর্শ সরকারি কলেজের প্রভাষক প্রিন্স আহম্মেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য আজীবন শোষিত মানুষের অধিকার ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। তার প্রতিটি কবিতায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর ধ্বনিত হয়েছে। বর্তমান সরকার কবির এই অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চেতনাকে আগামী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সন্ধ্যায় হলেও দুপুর থেকেই শুরু হয় নানা কার্যক্রম। কর্মসূচির শুরুতে দেশবরেণ্য কবিদের অংশগ্রহণে কবিতা আবৃত্তি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
কবির পৈতৃক ভিটায় এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে কোটালীপাড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মেলা প্রাঙ্গণে বসেছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা। আগামী শুক্রবার (১৫ মে) এই মেলা সমাপ্ত হবে। সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
উল্লেখ্য, ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করা এই ক্ষণজন্মা কবি ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। কবির পিতা নিবারণ ভট্টাচার্য কোটালীপাড়ার পৈতৃক ভিটা ছেড়ে কলকাতায় চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় এই সম্পত্তি বেদখল ছিল। পরবর্তীতে সরকারি উদ্যোগে তা দখলমুক্ত করে জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে সেখানে একটি লাইব্রেরি কাম অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হয়। 'ছাড়পত্র', 'ঘুম নেই', 'পূর্বাভাস', 'অভিযান' ও 'হরতাল' কবির উল্লেখযোগ্য কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...