বিজ্ঞাপন
তখন মনে হলো, আসলে মানুষকে শুধুমাত্র নিয়ম, আইন আর পলিসির বেড়াজালে আটকে রেখে ভালো বানানো যায় না। কারণ সমস্যা সাইনবোর্ডে না, সমস্যা বোর্ড পড়া মানুষটার ভেতরে। ভিতরটা যদি পরিষ্কার না হয়, বাইরে হাজারটা নীতিমালা ঝুলিয়েও লাভ নেই।
পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ আছে যেখানে আইন কম, কাগজে কলমে নীতিমালা কম, কোথাও কোথাও লিখিত সংবিধানও নেই। অথচ তারা দুর্নীতি, অসততা, মিথ্যা কিংবা নিয়ম ভাঙার সংস্কৃতির ধারেকাছেও যায় না। কারণ সেখানে মানুষ আগে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে, সরকার পরে আসে।
আমাদের দেশে চিন্তাটা একটু উল্টো। ভাবা হচ্ছে, বেতন বাড়ালে মানুষ ভালো হয়ে যাবে। বিগত সরকার কয়েক দফায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়িয়েছিল, যুক্তি ছিল এতে দুর্নীতি কমবে, অফিস হবে স্বচ্ছ।
বাস্তবে যা হলো, মনে হলো শুধু টাকার অংক বড় হলো, কিন্তু নৈতিকতার ব্যালেন্স শূন্যের কাছেই রয়ে গেল। বর্তমান সরকারও প্রায় একই যুক্তিতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে। উদ্দেশ্য ভালো কর্মচারীরা যেন দুর্নীতিমুক্ত থাকেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ভালো মানুষ তৈরির কারখানা কি বেতন স্কেলের ভেতর খোলা যায়?
একটা বাস্তব ঘটনা বলি।
কিছুদিন আগে পরিচিত একজন গেলেন ভূমি অফিসে জমির কাগজপত্র ঠিক করতে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘুষের টাকার দরদাম করছেন। ঠিক সেই সময় আজান হলো। তিনি বললেন “বেশি কথা বলতে পারবো না, নামাজে যেতে হবে।”
ভাবুন একবার! এক হাতে ঘুষের হিসাব, অন্য হাতে ধর্মীয় দায়িত্বের প্রস্তুতি। অর্থাৎ বিবেককে পার্কিংয়ে রেখে আমরা ধর্ম, নীতি আর দায়িত্ব সব একসাথে পালন করতে চাই!
সত্যিটা খুব সহজ।
ভালো থাকা, ভালো হওয়া এটা সম্পূর্ণ নিজের ভেতরের সিদ্ধান্ত। জেলখানায় নিয়ে, দড়ি দিয়ে বেঁধে, আইন করে, পলিসি বানিয়ে, সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে কাউকে ভালো মানুষ বানানো যায় না।
কারণ সততা কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন নয়, এটা চরিত্রের অভ্যাস। যেদিন মানুষ নিজে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখবে, সেদিন হয়তো সাইনবোর্ড লাগাতে হবে না। আর ঘুষের দরদাম করতে করতে কেউ নামাজে যাওয়ার তাড়াও অনুভব করবে না।
তাই সমাজ বদলাতে চাইলে আগে মানুষ বদলাতে হবে।আইন নয়, আগে প্রয়োজন বিবেকের সংস্কার।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...