বিজ্ঞাপন
তবে মঙ্গলবার (৩০ জুন) থেকে জেলায় তাপমাত্রা কমে আসায় লোডশেডিংও বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউর রহমান।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জে মোট ২ হাজার ৫০০টি পোল্ট্রি খামার রয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ১৭৭টি ব্রয়লার ফার্ম, ৩৩৮টি লেয়ার ফার্ম এবং ৩৯১টি হাঁসের খামার রয়েছে। জেলায় বছরে প্রায় ৭৫ দশমিক ১০ হাজার মেট্রিক টন মুরগির মাংস এবং ২৫ দশমিক ৩৭ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়। এসব উৎপাদন আসে খামার ও গৃহপালিত হাঁস-মুরগি থেকে।
কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল গ্রামের বাংলা অ্যাগ্রো পোল্ট্রি ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. আকিবুল ইসলাম জানান, তার গোয়াল গ্রামের খামারে বর্তমানে ২ হাজার ৫০০টি ব্রয়লার মুরগি রয়েছে। প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে লোডশেডিং যোগ হওয়ায় মুরগি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেনারেটর চালিয়ে খামার সচল রাখতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “এক কেজি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে ১৩০ থেকে ১৪৫ টাকা খরচ হচ্ছে, অথচ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি দরে। এর মধ্যে কিছু মুরগি মারা যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে লোডশেডিং কমেছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পোল্ট্রি খাদ্যের দাম কমানো হলে খামারিরা উপকৃত হবেন।”
মুকসুদপুর উপজেলার বরমপাল্টা গ্রামের লেয়ার খামারি সুরেশ ভদ্র বলেন, “অতিরিক্ত গরমে মুরগি হাপিয়ে উঠছে। তার সঙ্গে লোডশেডিং যুক্ত হওয়ায় ডিমের উৎপাদন ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমে গেছে। মাঝে মধ্যে মুরগিও মারা যাচ্ছে। এক হাজার মুরগির পেছনে প্রতিদিন গড়ে সাত হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে, অথচ ডিম পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০টি। উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, বাজারে পোল্ট্রি ফিডের দাম বেশি এবং ডিমের দাম তুলনামূলক কম। সরকার লোডশেডিং বন্ধের পাশাপাশি ডিমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করলে খামারিরা লাভবান হবেন।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গেবিন্দ চন্দ্র সরদার জানান, অতিরিক্ত গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে জেলার পোল্ট্রি খামারগুলোতে প্রায় ১০ শতাংশ মুরগির মড়ক দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ডিমের উৎপাদন ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
তিনি খামারিদের উদ্দেশে পরামর্শ দিয়ে বলেন, গরমের সময়ে মুরগিকে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা পরিবেশে রাখতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং খাদ্যের বায়োসিকিউরিটি বজায় রাখতে হবে। এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে পোল্ট্রি খাতের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউর রহমান বলেন, “জেলায় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৯০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ লোডশেডিং করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা থেকে জেলায় কোনো লোডশেডিং নেই। এছাড়া গোপালগঞ্জে কখনোই একটানা লোডশেডিং করা হয়নি। গরমের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিং বাড়ানো বা কমানো হয়েছে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...