বিজ্ঞাপন
সাজিমারা যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে সকাল থেকেই নদীর দুই তীরে ভিড় করেন হাজারো দর্শনার্থী। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসে বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ ক্রীড়া উপভোগ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মমতাজুর রহমান (মমতাজ)। সহ-সভাপতি ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য চান মিয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ মজিবর রহমান (মজি), হামিদুর রহমান (ফর্সা), শরীফ উদ্দিন শরীফ, মাহবুব আলম, আশিকুর রহমান সিলিম, জুবাইদুল ইসলাম শামীম, আশরাফুল ইসলাম রবিন, আলামিন, ইসমতদোহা হিটলার, মিজানুর রহমান শান্ত, আশরাফুল ইসলাম (বিকট)সহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উদ্বোধনের পর শুরু হয় প্রতীক্ষিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। এতে ময়মনসিংহের মহিষমারী থেকে স্বাধীন বাংলা নৌকা, জামালপুরের সরিষাবাড়ী থেকে একতা নৌকা এবং শেরপুরের ৭ নম্বর চর এলাকা থেকে উড়াল পাখি ও দুরন্ত নৌকাসহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিযোগী দল অংশগ্রহণ করে। বৈঠার তালে তালে মাঝিদের প্রাণবন্ত প্রতিযোগিতা, দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে পুরো নদী এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
দর্শনার্থী মোঃ রাসেল বলেন, “নৌকা বাইচ আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম অংশ। প্রতিবছর এমন আয়োজন হলে নতুন প্রজন্মও আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।”
অপর দর্শনার্থী মোঃ রিপন বলেন, “দীর্ঘদিন পর এত বড় নৌকা বাইচ দেখতে পেরে খুব ভালো লাগছে। হাজারো মানুষের উপস্থিতি এ আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ। গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতাকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বিজয়ীদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উৎসবমুখর এ আয়োজন স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে এবং বাংলার লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...