বিজ্ঞাপন
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের সুন্দর আলীর ছেলে ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এমরান হোসেন রুবেল (৫০) এবং একই উপজেলার বাসিন্দা আজিজুল হক (৬০)। মামলার অপর আসামি ভীমখালী ইউনিয়নের ছোট ঘাগটিয়া গ্রামের হাসিম উল্লাহর ছেলে তোলা মিয়া (৪৫) অভিযানের সময় কৌশলে পালিয়ে যান। পুলিশ জানায়, পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জামালগঞ্জ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে মাদক কেনাবেচার সময় সন্দেহভাজন হিসেবে এমরান হোসেন রুবেল ও আজিজুল হককে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে তাদের হেফাজত থেকে ১৯০ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের অন্য সদস্য তোলা মিয়া দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় নির্বিঘ্নে মাদক কারবার চালিয়ে আসছিল। গ্রেফতারকৃত এমরান হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকার যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার এবং কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে ও হাওরাঞ্চলে মাদকের অনুপ্রবেশ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল এই সফল অভিযানের প্রশংসা করেছেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সব মাদক কারবারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৯০ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের টিম মাঠে কাজ করছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বহাল থাকবে।”
এদিকে, দলীয় নেতার মাদকসহ গ্রেফতারের বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মালিক জানান, “এমরান হোসেন রুবেল আমাদের কমিটির সদস্য। তিনি ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছেন বলে আমরা লোকমুখে ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুতই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির জরুরি সভা আহ্বান করা হবে। অপরাধের সাথে দলের কোনো আপস নেই, সভায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...