বিজ্ঞাপন
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ শহরের শিল্পকলা একাডেমির হাছন রাজা মিলনায়তনে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা জয়ন্ত সেন দীপু।
সুনামগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট বিমান কান্তি রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বিমল বণিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বাসুদেব ধর। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক কালবেলার সম্পাদক ও প্রকাশক সন্তোষ শর্মা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রাণতোষ আচার্য শিবু, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ এবং কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট মলয় চক্রবর্তী রাজু।
এছাড়াও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি দীপক চন্দ্র ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট রাধাকান্ত সূত্রধর, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের প্রচার সম্পাদক বিপ্লব কান্তি তালুকদার, জামালগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু অজিত রায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি সুরঞ্জিত চৌধুরী টপ্পা, তাহিরপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গণেশ তালুকদারসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে আগত বিপুলসংখ্যক নেতা, প্রতিনিধি এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী সুধীজন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অবদান রয়েছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) সি. আর. দত্ত বীর উত্তম এবং প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ অসংখ্য সংখ্যালঘু নেতার অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে এ জনগোষ্ঠীকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
বক্তারা অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নির্যাতন, উপাসনালয়ে ভাঙচুর, প্রতিমা বিনষ্ট এবং সম্পত্তি দখলের মতো ঘটনা ঘটেছে, যা একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
তারা সাম্প্রতিক সময়ে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের গড়কাটি গ্রামে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু যুবকের বাড়ি, মন্দির এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পলাশবাড়িতে রামের প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
সম্মেলনে সংখ্যালঘুদের অর্পিত সম্পত্তি-সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু কমিশন গঠনসহ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ঘোষিত ৮ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, সুনামগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল জনপদ হিসেবে পরিচিত। এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছেন। এই সম্প্রীতির ঐতিহ্য নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে। একই সঙ্গে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা।
আলোচনা সভা শেষে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, জেলার বিভিন্ন ইউনিটকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে প্রতিনিধি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক প্রতিনিধি ও নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...