বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, কামালনগর এলাকার শেখ আব্দুর রউফের ছেলে শেখ রুবেল সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে আমদানি-রপ্তানি ও পণ্য ট্রান্সপোর্টের ব্যবসা করে আসছেন। ব্যবসায়িক সূত্রে তৌহিদুজ্জামানের সাথে তার পরিচয় ও লেনদেন গড়ে ওঠে। যৌথ ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আদা ও তেঁতুল বাবদ তৌহিদুজ্জামানের কাছে শেখ রুবেলের সর্বমোট ৫১,২০,০০০/- (একান্ন লক্ষ বিশ হাজার) টাকা পাওনা হয়।
তৌহিদুজ্জামানের কাছে এখনো ১৭,৯৪,০০০/- (সতের লক্ষ চুরানব্বই হাজার) টাকা বকেয়া পাওনা থেকে যায়। এই বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য ভোমরা ব্যবসায়ী সমিতির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ-মিমাংসা ও সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও প্রতারক তহিদুজ্জামান টাকা না দিয়ে বারবার টালবাহানা করতে থাকে।
সর্বশেষ টাকা পরিশোধের নির্ধারিত দিন গত ৩১ মে (২০২৬) তারিখে ব্যবসায়ী শেখ রুবেল পাওনা টাকা চাইতে তৌহিদুজ্জামানের বাড়ির সামনে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তৌহিদুজ্জামান তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। একপর্যায়ে তৌহিদুজ্জামানের নির্দেশে তার ছেলে জাবের হোসেন রাতুল বাড়ি থেকে ধারালো চাকু ও হাতুড়ি নিয়ে এসে রুবেলকে খুন করার উদ্দেশ্যে চড়াও হয়। এসময় তারা চিৎকার করে বলতে থাকে, "সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি আমাদের নিকটাত্মীয়, পারলে আমাদের কিছু করে নিস।"
ঘটনার সময় স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ জলিলুর রহমান, মোঃ কামরুজ্জামান, মোঃ আলমগীর হোসেন ও মোঃ তাজউদ্দিনসহ আরও অনেকে উপস্থিত থেকে বিষয়টি দেখেন এবং ব্যবসায়ী রুবেলকে উদ্ধার করেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই পিতা-পুত্র চক্রটি সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন জায়গা এবং ভোমরা স্থলবন্দরের আরও অনেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কমিশনে আমদানি ও রপ্তানি কৃত পণ্য বাকিতে ক্রয় করে চম্পট দিয়েছে। বর্তমানে তারা এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছে। ভুক্তভোগীরা এই প্রতারক চক্রটিকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শেখ রুবেল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে পরামর্শ করে গত ৩১/০৫/২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এই বিষয়ে সাতক্ষীরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...