Logo Logo

বিশ্বকাপ ‘বিক্রি’ ইস্যুতে বাংলাদেশ কোন দিকে?


Splash Image

বিশ্বকাপ ফুটবলের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এক বিতর্কে উত্তাল পুরো ফুটবল বিশ্ব। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের শিরোপা জয়ের আনন্দকে ছাপিয়ে এখন বিশ্ব ফুটবলে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ফিফার বিশ্বকাপ ‘বিক্রি’ বা বাণিজ্যিকীকরণ ইস্যু। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো টুর্নামেন্টগুলোর সম্প্রচার ও বিপণন অধিকার একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির কাছে বিক্রি করে বিপুল অর্থনৈতিক লাভের পরিকল্পনা করছেন, যা নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে ফুটবল বিশ্ব।


বিজ্ঞাপন


ফিফা সভাপতির মূল প্রস্তাব—আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলো একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে যে বিপুল অর্থ আসবে, তা ভাগ করে দেওয়া হবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সদস্য দেশগুলোকে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্বের সকল ফুটবল ফেডারেশনকে এই প্রকল্পের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মতামত জানাতে নির্দেশনা পাঠিয়েছে ফিফা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে) ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা থেকে এই সম্পর্কিত বার্তা হাতে পেয়েছে।

তবে ফিফার এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউরোপের 'উয়েফা' এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার 'কনকাকাফ'। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অর্থের ঝনঝনানি বাড়লেও এমন বাণিজ্যিকীকরণে ফুটবলের মৌলিকতা ও সার্বজনীনতা নষ্ট হবে। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলো একজোট হয়ে প্রয়োজনে বিশ্বকাপ বয়কটেরও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) ইউরোপের মতো অতটা কড়া না হলেও এক বিবৃতিতে ফিফাকে সব স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়নের তাগিদ দিয়েছে।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই প্রকল্প এক বিশাল আর্থিক সুযোগ। কারণ বাফুফের মূল চালিকাশক্তি ফিফার অনুদান। এই বিতর্কিত প্রকল্প পাস হলে চার বছরের চক্রে বাফুফে ফিফা থেকে কয়েকশ কোটি টাকা অনুদান পেতে পারে। তবে বাফুফের নির্বাহী সদস্য ও এএফসি নির্বাহী কমিটির প্রতিনিধি মাহফুজা আক্তার কিরণ জানান, এএফসি বিবৃতি দিলেও এ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চূড়ান্ত সভা হয়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানান, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। দ্রুতই বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। নিজেদের মধ্যে আলোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই বাংলাদেশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়া ও আফ্রিকার অনুদাননির্ভর দেশগুলোকে বড় অংকের অর্থ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফিফা সভাপতি মূলত নিজের ভোট ব্যাংক ভারী করতে চাইছেন। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তিগুলোর তীব্র বিরোধিতা পেরিয়ে ইনফান্তিনোর এই বিতর্কিত 'বিশ্বকাপ বিক্রি' প্রকল্প কতদূর এগোয়।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...