ছবিঃ ইন্টারনেট
বিজ্ঞাপন
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট'-এর সিনিয়র ফেলো রস হ্যারিসন আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট কোনো সামরিক কৌশল চিহ্নিত করা কঠিন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত সংঘাত এড়ানোর পথ বেছে নিয়েছেন।
হ্যারিসন মনে করেন, তেহরানের দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে— ইরানি নীতি নির্ধারকরা বিশ্বাস করেন, সংঘাত আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি অনুধাবন করেই ট্রাম্প প্রশাসন শেষ মুহূর্তে হামলা বাতিল করেছে।
সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের সমকক্ষদের সাথে ফোনে কথা বলেছেন। তবে ট্রাম্প ঠিক কী কারণে হামলা স্থগিত করলেন, কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পর্দার অন্তরালে কী সমঝোতা হয়েছে— তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের বিষয়টিই বর্তমান উত্তেজনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অস্পষ্টতার কারণেই মূলত নতুন করে সংঘাত ঘনীভূত হয়। ইরান স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদকে নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করে ওই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করে। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র ওমানকে সঙ্গে নিয়ে ওমানের দক্ষিণ উপকূল ঘেঁষে জাহাজ চলাচলের বিকল্প পথ তৈরি করে ইরানের প্রভাব খর্ব করার চেষ্টা চালায়।
রস হ্যারিসনের মতে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি মুক্ত করা এবং অবরোধ তুলে নেওয়া নিয়ে যদি দুপক্ষের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট কোনো চুক্তি না হয়, তবে বর্তমান শান্ত পরিস্থিতি খুব বেশি দিন টিকবে না। এখন পর্যন্ত যে ঘোষণাগুলো এসেছে, তা সংঘাতের স্থায়ী কোনো সমাধান নয়— বরং এটি একটি সাময়িক বিরতি মাত্র।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...