বিজ্ঞাপন
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী শনিবার নিজ জন্মভূমি মাদেইরা দ্বীপে এই তারকা যুগলের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। ৪১ বছর বয়সী রোনালদো এবং ৩২ বছর বয়সী জর্জিনার এই রাজকীয় বিয়ের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে মাদেইরার রাজধানী ফুনচালের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে। স্থানীয় রীতি অনুযায়ী বিকেল তিনটায় ধর্মীয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরবর্তীতে আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথিদের সংবর্ধনার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে শহরের চোখধাঁধানো বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেল 'স্যাভয় প্যালেস'।
এর আগে গুঞ্জন উঠেছিল যে, পর্তুগালের সিন্ত্রা শহরের বিখ্যাত 'কুইন্তা দা রেগালেইরা' এস্টেটে হতে যাচ্ছে এই হাই-প্রোফাইল বিয়ে। তবে সপ্তাহান্তে ওই এস্টেট সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার খবর চাউর হতেই সেই গুঞ্জন ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়। এর পরেই মাদেইরায় বিয়ের পাকা খবরের সত্যতা সামনে আসে। স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, অতিথিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা রক্ষার্থে স্যাভয় প্যালেস হোটেলের দুটি তলা ও কয়েকটি বার সাময়িকভাবে সাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে।
ফুনচাল কেবল বিয়ের ভেন্যুই নয়, এটি সিআরসেভেনের আবেগ ও জীবনের মূল শিকড়। এই শহরেই দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে বড় হয়েছেন আজকের এই বিশ্বজয়ী তারকা। ছোটবেলায় এক ঘরে ভাইবোনদের সাথে দিন কাটানো রোনালদো মাত্র ১১ বছর বয়সে স্পোর্টিং লিসবনের একাডেমিতে যোগ দিতে বাড়ি ছাড়েন। ফুনচালে তাঁর একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য এবং নিজস্ব হোটেলও রয়েছে। শৈশবের সেই প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম ধনী অ্যাথলেট হিসেবে জন্মভূমিতে ফিরে জীবনের শ্রেষ্ঠ দিনটি উদ্যাপন রোনালদোর জন্য অত্যন্ত আবেগঘন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মাদ্রিদের একটি ফ্যাশন স্টোরে জর্জিনার সাথে রোনালদোর প্রথম দেখা ও প্রেম। বর্তমানে সৌদি ক্লাব আল নাসরে খেলা এই উইঙ্গার গত বছরের আগস্টে জর্জিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সম্প্রতি স্পেনের মায়োর্কায় ইয়টে ভ্রমণের সময় দুজনের আঙুলে মূল্যবান হীরার আংটি দেখা গেলে বিয়ের গুঞ্জন চূড়ান্ত রূপ নেয়। বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট শেষেই বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সিআরসেভেন। পর্তুগালের বিশ্বকাপ সফর শেষ হওয়ার পরপরই এবার নতুন জীবনের ইনিংস শুরু করতে চলেছেন এই কিংবদন্তি জুটি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...