বিজ্ঞাপন
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা খাতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, রাজধানী তাইপেইয়ের একটি আন্ডারগ্রাউন্ড কমান্ড সেন্টার থেকে নির্দেশ জারির পরপরই প্রত্যুষে দেশের সার্বিক সামরিক বাহিনীকে শতভাগ প্রস্তুত রাখা সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো শুরু হয়। কৌশলগত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফাইটার জেটগুলোকে ছড়িয়ে দেওয়া (dispersals) এবং জরুরি ভিত্তিতে নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া, এবার যুদ্ধের জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাময়িকভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা বা কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সামরিক কার্যকারিতা বাড়াতে তাইওয়ান এবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর আদলে ‘ব্যাকব্রিফ’ (backbrief) পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই পদ্ধতিতে অধস্তন বা কনিষ্ঠ কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতনদের কাছ থেকে আদেশ পাওয়ার পর মিশনের বিস্তারিত বিবরণ কমান্ডারের সামনে পুনরায় ব্যক্ত করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কমান্ডিং অফিসার ও অধস্তন সৈনিকদের মধ্যে অভিযানের মূল উদ্দেশ্য যেন শতভাগ স্পষ্ট থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে চীন। সংঘাতের শুরুতেই চীন যেন তাইওয়ানের কমান্ড সেন্টার, সমুদ্রবন্দর, রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প কেন্দ্রগুলোকে অচল করে দিতে না পারে— সেই মূল উদ্বেগকে কেন্দ্র করেই এবারের মহড়াটি সাজানো হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত রাখা হবে। সব মিলিয়ে চলমান এই মহড়া তাইওয়ান প্রণালীর ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিল। - (সুত্রঃ Reuters)
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...