Logo Logo

নড়াইলে বিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে বেহাল সড়ক, দ্রুত সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন


Splash Image

নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী দত্তপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চরম বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নড়াইল-যশোর জাতীয় মহাসড়ক থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরত্বে অবস্থিত এই সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান কাদাপানিতে সয়লাব হয়ে যায়। ফলে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী এবং ২৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জামাকাপড় ও বই-খাতা। এই জনদুর্ভোগ নিরসন ও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার দাবিতে সড়কটি দ্রুত পাকা করার আকুল আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।


বিজ্ঞাপন


সড়কটি অনতিবিলম্বে সংস্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে বিদ্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধনের আয়োজন করেন ক্ষুব্ধ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। রিমঝিম বৃষ্টি ও কাদা উপেক্ষা করেই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মূল মহাসড়কের একদম কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই অংশটি অবহেলিত রয়ে গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কিংবা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে বিষয়টি অবগত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রাত্যহিক করুণ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা। সৌরভ শেখ নামের এক শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলে, সংযোগ সড়কটি চলাচলের একদম অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অনেক দিন ৫০ জনের শ্রেণিকক্ষে মাত্র ৭ থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত হতে পারে। অন্য শিক্ষার্থী মুরসালিন জানায়, সম্প্রতি কাদার মধ্যে পিছলে পড়ে এক শিক্ষক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা শিকার হয়ে মারাত্মক আহত হয়েছেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রতিনিয়ত পা পিছলে পড়ে গিয়ে জামাকাপড় ও বই-খাতা নষ্ট হওয়ায় জুলেখাসহ অনেক শিক্ষার্থী মাঝপথ থেকেই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান প্রক্রিয়া।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ বজায় রাখতে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। অথচ নড়াইল-যশোর মহাসড়কের মাত্র ১০০ গজের এই বেহাল দশার কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। কাদার কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী সময়মতো ক্লাসে আসতে পারছে না, যা পরীক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত সড়কটি স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারাও মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, এই সড়কটি কেবল শিক্ষার্থীদের নয়, পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষের চলাচলেরও একমাত্র মাধ্যম। গ্রামের কৃষক, ব্যবসায়ী ও রোগীদের যাতায়াতে প্রতিদিন পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় কষ্ট। মানববন্ধন শেষে বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...