Logo Logo

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

মির্জা ফখরুলই বিএনপির প্রার্থী, তবে আগাম ঘোষণা করবে না দল


Splash Image

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে বিএনপি—এমনটাই জানিয়েছেন দলটির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে না দলটি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা।


বিজ্ঞাপন


বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দলের স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছে। ফলে আগাম প্রার্থীর নাম প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়নি দল। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। আগামী ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

দলের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের দাবি, বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন দুই দিন আগেই চূড়ান্ত করেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সম্মতি হিসেবে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর বা লিখিত সম্মতিও মির্জা ফখরুল গত শনিবার দিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থীকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আগ্রহের মধ্যে ইসি থেকে দলের পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ইসি সূত্র জানিয়েছে, একই প্রার্থীর নামে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে যেকোনো একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই ওই ব্যক্তি বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন। সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নির্বাচনের সময়ও তাঁর নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি পদে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য বিএনপির সাবেক নেতা এবং বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে না।

মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের জন্য ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন গতকাল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের সইয়ে জারি করা হয়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হয়। ভোটার হিসেবে থাকেন সংসদ সদস্যরা এবং তাঁদের প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে বলা হয়েছে, সংসদ অধিবেশনের বাইরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজন হলে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে ভোটের দিন নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিন সিইসি সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করবেন এবং ওই বৈঠকে সভাপতিত্বও করবেন তিনি।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে গতকাল জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হুইপ জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া এবং ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে সংসদ সচিবালয় জানায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংসদের অধিবেশন কক্ষ ব্যবহার, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন না। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকায় দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হবে।

তিনি আরও জানান, ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ভোট দেওয়ার সময় তা টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ভোট গণনা থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াও সরাসরি সম্প্রচারের আওতায় থাকবে।

অন্যদিকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রয়োজন। তাঁর মতে, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল। গণভোটের রায় সংস্কারের পক্ষে আসায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হতেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় তাঁরা এটিকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে দিতে চান না। এ কারণেই তাঁদের পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...