বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) জেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে মানুষের নাভিশ্বাস ও হাঁসফাঁস অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। জীবিকার তাগিদে এই প্রখর রোদের মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষদের। অনেককে একটু শীতলতার খোঁজে হাত, মুখ ও শরীরে পানি ছিটিয়ে স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। কেউ ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন, আবার কেউ সাময়িক তৃষ্ণা মেটাতে পান করছেন ঠান্ডা শরবত। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষদের আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে গরমজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বাড়তি খরচ।
দিনমজুরের কাজ করে বার্ধক্যে পৌঁছানো ষাটোর্ধ্ব শফিয়ার রহমান মিয়া জানান, জীবনের অধিকাংশ সময় পরিশ্রমে কাটলেও এবারের চরম গরম আর সংসারের বাড়তি চাপ তাকে তীব্রভাবে ক্লান্ত করে তুলেছে। তীব্র রোদের কারণে শারীরিক কষ্ট আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে বলে জানান তিনি।
সদরের রামনগর বাজারের আরেক দিনমজুর আক্ষেপ করে বলেন, গরমে সারা দিন পরিশ্রম করার পর ঘরে ফিরেও মিলছে না শান্তি। অল্প কাজ করলেই শরীর ঘেমে ভিজে যাচ্ছে, কিন্তু সে তুলনায় মজুরি পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
আনন্দ বাবুর ব্রিজ এলাকায় রিকশাচালক ওসমান দৈনিক ভোরের বাণীকে বলেন, "সূর্য ওঠার পর থেকেই গরমের তীব্রতা বাড়ে। সামান্য পথ চলতেই ঘামে শরীর ভিজে যায় এবং গলা শুকিয়ে আসে। বেশি সময় ভাড়া টানা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু দিন শেষে রিকশা মালিককে জমার টাকা দিতে হয় বলে ক্লান্তি সত্ত্বেও জিরিয়ে জিরিয়ে রিকশা চালাতে হচ্ছে।" টানা গরম থাকলে তাদের আয়-রোজগার মারাত্মকভাবে কমে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
একইভাবে জলঢাকা রাজার হাটে ভ্যানচালক করিম জানান, জিরোপয়েন্ট মোড় থেকে ভারী মালামাল নিয়ে ভ্যান চালাতে প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে। রাতে সবসময় ভাড়া না পাওয়ায় পেটের তাগিদে বাধ্য হয়েই এই প্রখর রোদে গাড়ি চালাতে হচ্ছে তাকে।
এছাড়া শহরের চৌরঙ্গী মোড়ের ফুটপাত ব্যবসায়ীরা জানান, প্রখর রোদের কারণে বাজারে ক্রেতাদের সমাগম অনেক কমে গেছে। সারাদিন বাইরে অবস্থান করায় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। যে সামান্য আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন, তার ওপর পানি, শরবত ও চিকিৎসার মতো বাড়তি খরচের বোঝা বহন করতে গিয়ে তারা চরম কষ্টে দিন অতিবাহিত করছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...