Logo Logo

চট্টগ্রামে লাগামহীন ‘পোস্টার সন্ত্রাস’ : কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় হারাচ্ছে নগরীর সৌন্দর্য


Splash Image

চট্টগ্রাম মহানগরের সৌন্দর্য ও পরিবেশ গ্রাস করছে যত্রতত্র লাগানো অবৈধ পোস্টার, ব্যানার আর ফেস্টুন। নগরীর প্রধান সড়ক, অলিম্পিক মোড় থেকে শুরু করে ভেতরের অলিগলি—কোথাও ফাঁকা নেই। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দেয়াল, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গণপরিবহনের যাত্রী ছাউনি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো এখন পোস্টারের নিচে চাপা পড়েছে। সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, পুরো চট্টগ্রাম শহর যেন এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ‘ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে’ পরিণত হয়েছে। এই লাগামহীন ‘পোস্টার সন্ত্রাস’ বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর ভূমিকা না থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জিইসি মোড়, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, বহদ্দারহাট এবং আগ্রাবাদের মতো ব্যস্ততম এলাকার দৃশ্য সবচেয়ে শোচনীয়। বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা বার্তা, টু-লেট এবং বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গেছে পুরো নগরী। একটির ওপর আরেকটি পোস্টার লাগানোর ফলে দেয়ালগুলোতে নোংরা স্তূপ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য বৈধ এবং আধুনিক অনেক মাধ্যম রয়েছে। ডিজিটাল বিলবোর্ড বা নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনী স্থান ব্যবহার না করে, যত্রতত্র পোস্টার লাগিয়ে নগরীর সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। শহরটি সবার, তাই এর সৌন্দর্য রক্ষা করার দায়িত্বও সবার।"

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই পোস্টার সংস্কৃতির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে বিভিন্ন নামী-দামী কোচিং সেন্টার এবং নতুন গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো। দেওয়ালে চুনকাম বা রঙ করার কয়েকদিনের মধ্যেই রাতের আঁধারে এসব পোস্টার লাগিয়ে দেওয়া হয়। এতে একদিকে যেমন দেওয়ালের মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে পথচারী ও পর্যটকদের কাছে চট্টগ্রাম শহরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

কোথায় দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ? ট্টগ্রামকে একটি পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর। কিন্তু যত্রতত্র এই পোস্টার লাগানোর বিরুদ্ধে তাদের দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন—চট্টগ্রাম শহরকে এই পোস্টার সন্ত্রাস থেকে রক্ষা করার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ আসলে কোথায়? আইন থাকার পরও কেন এর প্রয়োগ হচ্ছে না?

পরিবেশবিদদের মতে, যত্রতত্র পোস্টার লাগানো কেবল দৃশ্যদূষণই (Visual Pollution) তৈরি করে না, বরং বর্ষাকালে এসব পোস্টার ধুয়ে ড্রেনে পড়ে জলবদ্ধতারও সৃষ্টি করে। ‘দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২’ অনুযায়ী, চসিকের অনুমতি ছাড়া কোথাও পোস্টার লাগানো দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

নগরবাসী দাবি তুলছেন, শুধু জরিমানা নয়, যারা শহর নোংরা করছে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে। একই সাথে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...