বিজ্ঞাপন
যাত্রীদের সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পথে কেরানীগঞ্জ, নগরকান্দা ও মহেশপুর স্টেশন থেকে একদল উঠতি বয়সী কিশোর ও যুবক ট্রেনে ওঠে। এরপর তারা বগির ভেতর দৌরাত্ম্য শুরু করে। ট্রেনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি এবং নারীদের উদ্দেশে ইভটিজিংসহ নানা ধরনের উৎপাত করতে থাকে তারা।
চলন্ত ট্রেনে এমন পরিস্থিতিতে পরিবার ও শিশুদের নিয়ে ভ্রমণকারী যাত্রীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি গোপালগঞ্জে পৌঁছানো পর্যন্ত ওই আতঙ্ক অব্যাহত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, পুরো যাত্রাপথে ট্রেন কর্তৃপক্ষ কিংবা দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের কার্যকর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
তবে ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। গোপালগঞ্জ থেকে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ফেরার সময় মহেশপুর স্টেশনে পৌঁছালে ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে ওই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ট্রেনের পরিচালকের বগির একটি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এক ভুক্তভোগী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদে যাতায়াতের আশায় ট্রেনে উঠেছিলেন। কিন্তু পুরো পথ তাদের আতঙ্কের মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়েছে। নতুন রেলপথে শুরুতেই এ ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতির একপর্যায়ে ট্রেনটির পরিচালক আত্মরক্ষার জন্য বাথরুমে আশ্রয় নেন বলেও জানা গেছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে চালু হওয়া এই নতুন রেলপথে শুরুতেই এমন ঘটনা রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যাত্রীদের দাবি, ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটের প্রতিটি ট্রেনে পর্যাপ্ত রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) মোতায়েন, নিয়মিত টহল জোরদার এবং কিশোর গ্যাংয়ের চিহ্নিত সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে রেল কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় যাত্রীদের।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...