বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত রাজস্ব সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: পিএমও
বিজ্ঞাপন
আজ (মঙ্গলবার) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত রাজস্ব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব সম্মেলনকে তিনি সাধারণ কোনো সম্মেলন হিসেবে দেখছেন না। কারণ, এনবিআরের কার্যক্রমের সাফল্যের ওপর সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই এ সম্মেলন আগামী দিনে কর্মকর্তাদের আরও সাফল্যের পথ দেখাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের প্রভাব থেকে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো এনবিআরও মুক্ত থাকতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা, কারও প্রতি বিরূপ মনোভাব এবং রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল এবং মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। জনগণ এখন এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। বিশেষ করে করদাতারা প্রতিষ্ঠানটিকে তাদের আস্থাভাজন হিসেবে প্রত্যাশা করেন। দক্ষ ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এই আস্থা অর্জন সম্ভব।
এনবিআরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, করদাতাদের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে। বর্তমান সরকার এনবিআর তথা দেশের রাজস্ব কাঠামোকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
বিদেশি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্বের উৎস ও ক্ষেত্র বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার নীতির বিরোধী সরকার। এ জন্য অভ্যন্তরীণ আয়ের পরিধি বাড়াতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, আয় ও রাজস্বের ক্ষেত্র সম্প্রসারণে সরকার গণমুখী উৎপাদন নীতি গ্রহণ করেছে। এতে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়ন বাড়বে, মানুষের আয় বৃদ্ধি পাবে, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জনগণ আরও উন্নত সরকারি সেবা পাবে। এসব ক্ষেত্রে এনবিআরের দক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত ধরন, নতুন ব্যবসায়িক মডেল এবং আন্তর্জাতিক কর ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে নানা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব মোকাবিলায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, শুধু প্রচলিত কর আইন জানা একজন আধুনিক রাজস্ব কর্মকর্তার জন্য যথেষ্ট নয়। অর্থনীতি, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকলে কর্মকর্তাদের সামগ্রিক কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
একটি ভালো রাজস্ব ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত, যেখানে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে কর দিতে পারেন—এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী কর প্রদান পদ্ধতি সহজ, হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করার ওপর জোর দেন। করদাতাদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের আচরণ ও কার্যক্রমের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করা গেলে কর আদায়ও সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।
একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির নীতি টেকসই নয় বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। বরং কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের শনাক্ত করে যথাযথ নিয়মে করের আওতায় আনার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ জন্য ডিজিটাল ও আধুনিক ডাটাভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এনবিআরকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানুষ যেন এই প্রতিষ্ঠানকে ভয় না করে বরং বিশ্বাস করে। দেশের স্বার্থে এনবিআরকে জনগণের আরও বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে রাজস্ব আহরণে সাম্প্রতিক ইতিবাচক ধারার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ইতিবাচক ছিল। এতে প্রমাণ হয়েছে, এনবিআরের কর্মকর্তারা সক্ষম। দেশপ্রেম ও আন্তরিকতা থাকলে তারা আরও ভালো করতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...