ছবি : সংগৃহিত
বিজ্ঞাপন
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ এবং জেলা সদর হাসপাতালের জন্য ১০ শয্যা করে ডায়ালাইসিস প্রতিস্থাপন করতে যাচ্ছি। যাতে টারশিয়ারি লেভেলে রোগীদের ঢাকায় যেতে না হয়। জেলা পর্যায়ে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন থাকবে। প্রতিটি মেশিন দৈনিক তিন রাউন্ড করলেও ১৮০ জন রোগীকে ডায়ালাইসিস করা সম্ভব হবে। মেশিনের টেন্ডার হয়ে গেছে। এটি স্থাপন করতে তিন মাসও লাগবে না।’
তিনি জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়েও ১০টি করে ডায়ালাইসিস শয্যা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য ভবন নির্মাণের ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শিগগিরই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে প্রথমে ১০১ এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। ১৫১ শয্যার মধ্যে নারীদের জন্য ২৫টি এবং শিশুদের জন্য ২০টি শয্যা থাকবে। পাশাপাশি নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি ওয়ার্ড করা হবে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে অত্যাধুনিক প্যাথলজি ল্যাব ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা চালু করা হবে। নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি যেখানে পুরোনো ভবনের ভিত্তি শক্তিশালী রয়েছে, সেখানে ভবন উল্লম্বভাবে সম্প্রসারণ করা হবে। এভাবে স্বাস্থ্যসেবার মান উপজেলা পর্যায়ে উন্নীত করা হচ্ছে।
জনবল সংকট প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে প্রয়োজনের তুলনায় নতুন ডাক্তার নিয়োগ হয়নি। এখন আমরা ৫ হাজার ডাক্তার নিতে যাচ্ছি। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। আড়াই হাজার নার্স এবং আড়াই হাজার ফার্মাসিস্টও নেওয়া হবে। পিএসসিতে আরও ডাক্তারদের সাক্ষাৎকার চলছে।’
আগামী এক বছরের মধ্যে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল গড়ে উঠেছে, যেগুলোর অনেকগুলোর জবাবদিহি ছিল না। লাইসেন্স না থাকা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হচ্ছে এবং জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হচ্ছে।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এ সময় নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ. ম. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...