Logo Logo

'বাবাকে স্পষ্ট হত্যা করার চেষ্টা চলছে', বিস্ফোরক মন্তব্য ইমরান খানের দুই ছেলের


Splash Image

লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের উত্তাপ এবার ২২ গজের সীমানা ছাড়িয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই স্পোর্টসে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের দুই ছেলের একটি সাক্ষাৎকার প্রচারিত হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।


বিজ্ঞাপন


জানা গেছে, সাক্ষাৎকারটির প্রচার বন্ধ না হলে বিরতির পর পাকিস্তান দল মাঠে নামবে না—এমন হুমকিও দিয়েছিল দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। তবে সব নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে ১৮ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারটি স্কাই স্পোর্টসে সম্প্রচারিত হয় এবং পাকিস্তান দলও পরবর্তীতে মাঠে নামে।

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও খ্যাতিমান ধারাভাষ্যকার মাইকেল আথারটন লর্ডসের প্যাভিলিয়নে বসে কাসিম খান ও সুলাইমান খানের এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন। ২০১৮ সালে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী হন ইমরান খান। তবে ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একের পর এক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি রয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে ইমরানের কারাবাস, সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থা, সুচিকিৎসার অভাব এবং পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে বেশ কিছু বিস্ফোরক দাবি করেছেন তাঁর দুই সন্তান।

সাক্ষাৎকারে কাসিম ও সুলাইমান দাবি করেন, ২০২২ সালের নভেম্বরের পর থেকে বাবার সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো সাক্ষাৎ হয়নি এবং সর্বশেষ গত মার্চে ফোনে সংক্ষিপ্ত কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলেন। বর্তমানে আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানকে অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। দুই ভাইয়ের দাবি, ইমরান খানের এক চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তীব্র গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণহীন একটি ছোট্ট কামরায় প্রতিদিন ২৩ ঘণ্টার বেশি সময় তাঁকে সম্পূর্ণ একা ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বন্দি রাখা হচ্ছে, যার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাঁর রক্তচাপ ও মানসিক স্বাস্থ্যে।

বাবার জীবন চরম সংকটে রয়েছে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কাসিম খান। তিনি সরাসরি অভিযোগ এনে বলেন, পাকিস্তান সরকার ইমরান খানকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার স্পষ্ট চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর ও পর্যবেক্ষণে রাখার স্পষ্ট নির্দেশ দিলেও কর্তৃপক্ষ তা অমান্য করেছে। বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার বদলে তাঁকে কিছুক্ষণের জন্য সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নামমাত্র পরীক্ষার জন্য নিয়ে তড়িঘড়ি করে আবারও কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

পারিবারিক সূত্রে বারবার বাবার সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও ‘কারিগরি ত্রুটি’ দেখিয়ে তাঁদের ভিসা আটকে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তারা। একইসঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের অতীত ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে সুলাইমান খান বলেন, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর তাঁদের প্রতি কেবল মৌখিক সহানুভূতি দেখিয়েছে কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি; এমনকি পাকিস্তানে না যাওয়ার জন্যও তাঁদের সতর্ক করেছিল। তবে যুক্তরাজ্যে নতুন নেতৃত্ব আসার পর তাঁরা বাবার সুচিকিৎসা ও দ্রুত দেখা করার সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারে নতুন করে আশা প্রকাশ করেছেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...