বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে মুকসুদপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখা গেছে, উন্নয়নের সুবাতাসের চেয়ে নাগরিক দুর্ভোগের চিত্রই সর্বত্র প্রকট। ভাঙাচোরা ও সরু সড়ক, বর্ষায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টিকারী অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অপর্যাপ্ত সুপেয় পানি সরবরাহ এখানকার নিত্যদিনের বাস্তবতা। অচল নলকূপ, মহাসড়ক ও নদী তীরবর্তী এলাকায় যত্রতত্র ফেলা বর্জ্যের স্তূপ, অধিকাংশ সড়কবাতি অকেজো থাকা এবং শিশুদের জন্য কোনো বিনোদনকেন্দ্র না থাকায় স্থানীয় জীবনযাত্রা দিন দিন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তদুপরি, মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেও পৌর কর্তৃপক্ষের অবস্থান মূলত সীমাবদ্ধ রয়েছে সীমাবদ্ধতার অজুহাতে। প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত দাবি করা হচ্ছে—প্রয়োজনীয় অর্থ ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবেই উন্নয়ন কাজ গতি পাচ্ছে না। তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পৌরবাসীর প্রশ্ন, দীর্ঘ ২৬ বছরেও কেন রাজস্ব আয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেল না? নাগরিকদের কাছ থেকে নিয়মিত কর ও রাজস্ব আদায় করা সত্ত্বেও কেন স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি, তা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে।
বিদ্যমান এই পুঞ্জীভূত সংকট কাটাতে পৌর কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ‘রুরাল আরবান টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (আরইউটিডিপি)-এর আওতায় ২৯৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৪টি স্কিম প্রস্তাব করেছে। পৌর প্রশাসনের প্রত্যাশা, এই মেগা প্রকল্পের অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ মিললে সড়ক, টেকসই ড্রেনেজ, সুপেয় পানি সরবরাহ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সামগ্রিক অবকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত, কেবল নতুন প্রকল্পের আশায় কালক্ষেপণ না করে বিদ্যমান রাজস্ব তহবিলের স্বচ্ছ ব্যবহার ও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...