বিজ্ঞাপন
দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ সোমবার পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। উদ্ধারকারীরা জানান, বহু মরদেহ এখনও কাদা-মাটির পুরু স্তরের নিচে চাপা পড়ে আছে, যা অপসারণ করে মরদেহ উদ্ধার করতে আরও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।
প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে নেপালের আটটি জেলা সবচেয়ে বেশি ধ্বংসস্তূপের শিকার হয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহের মধ্যে চিতোয়ান থেকে ২৭২টি, নওয়ালপারসি পূর্ব থেকে ২০৭টি, নওয়ালপারসি পশ্চিম থেকে ১৫১টি এবং গোর্খা জেলা থেকে ৬২টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া নুয়াকোটে ৯৫টি, ধাদিঙে ৫৫টি, তানাহুতে ৩৭টি এবং রাসুয়ায় ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গত বুধবার সকালে রাসুয়ার ভোটেকোশি নদীতে সৃষ্ট ভয়াবহ হড়পা বানের কাদা ও পানির প্রবল স্রোত লোকালয় নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। স্রোতের টানে অনেক মরদেহ মূল ঘটনাস্থল থেকে বহু কিলোমিটার দূরে ভেসে যাওয়ায় তল্লাশি অভিযান চরম ব্যাহত হচ্ছে।
মরদেহ উদ্ধার হলেও তীব্র বিকৃতির কারণে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চেনার উপায় না থাকায় কর্তৃপক্ষ ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখছেন। তবে মরদেহ সংরক্ষণে তীব্র সংকটে পড়েছে নেপাল। দেশের হিমাগারগুলোতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অস্থায়ী ভবনে মরদেহ রাখা হলেও দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের পরিকাঠামো নেই। ফলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ শেষে গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার।
এদিকে, সীমান্তের ওপারে তিব্বতেও একই সময়ে বিপর্যয় নেমে আসে। চিনের দেওয়া তথ্য মতে, তিব্বত অঞ্চলে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৪৯ জন ভারতীয় নাগরিক, যারা ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের অধিবাসী। সোমবার তামিলনাড়ুর এক ভ্রমণ সংস্থা জানায়, তাদের ৪৯ জনের দলটি কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে গিয়ে বুধবার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
একইভাবে কলকাতার একটি পর্যটন দলের ৩২ জনসহ পশ্চিমবঙ্গের মোট ৩৭ জন ভারতীয়ের কোনো খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজ ভারতীয়দের বড় অংশ পর্যটক হলেও একটি অংশ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যের এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
হিমালয়কন্যা নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে এখন শত শত মানুষের করুণ আর্তনাদ। প্রিয়জনদের সন্ধানে দূরদূরান্ত থেকে স্বজনেরা ভিড় জমানোয় পুরো কাঠমান্ডুর স্বাস্থ্য অবকাঠামো সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...