Logo Logo

জাপানি মুদ্রার অতিরিক্ত দরপতনে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার শঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের


Splash Image

ছবি : সংগৃহীত।।


বিজ্ঞাপন


জাপানি ইয়েনের অস্বাভাবিক ও বিশৃঙ্খল দরপতন বিশ্ব আর্থিক বাজারকে বড় ধরনের অস্থিরতার মুখে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। এর চূড়ান্ত প্রভাবে খোদ মার্কিন পরিবার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ঋণের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গত ২৭ আগস্ট লেখা এক চিঠিতে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনকে এই আশঙ্কার কথা জানান মার্কিন ট্রেজারি প্রধান। গত মাসে টোকিও ও ওয়াশিংটনের যৌথ মুদ্রা হস্তক্ষেপের যৌক্তিকতা জানতে চেয়ে সিনেটর ওয়ারেনের পাঠানো চিঠির জবাবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন বেসেন্ট।

চিঠিতে স্কট বেসেন্ট উল্লেখ করেন, মুদ্রা বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে বিনিয়োগকারীরা বাধ্যতামূলকভাবে তাদের বিনিয়োগ প্রত্যাহার বা ‘ফোর্সড আনওয়াইন্ড’ করতে বাধ্য হতে পারেন। এর ফলে বন্ড মার্কেট থেকে শুরু করে ঋণ বাজার পর্যন্ত সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, "যে সংকট কখনোই ঘটে না, সেটিই হলো সবচেয়ে ভালোভাবে মোকাবিলা করা সংকট"। এই নীতির ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান যৌথভাবে মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ করে।

মার্কিন ট্রেজারি কীভাবে এই হস্তক্ষেপ পরিচালনা করেছে, তা ব্যাখ্যা করে বেসেন্ট জানান, তাদের জরুরি রিজার্ভ তহবিল 'এক্সচেঞ্জ স্টেবিলাইজেশন ফান্ড' (ESF)-এ থাকা বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদকে জাপানি ইয়েনে রূপান্তর করা হয়েছে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতে আর্জেন্টিনার তীব্র তারল্য সংকট ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি রুখতেও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। গত বছর আর্জেন্টিনার পেসো বাজার স্থিতিশীল করতেও এই তহবিল ব্যবহার করে ২০ বিলিয়ন ডলারের কারেন্সি সোয়াপ লাইন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই মার্কিন ও জাপানি কর্তৃপক্ষ বিরল এক যৌথ পদক্ষেপের মাধ্যমে ইয়েন কেনা শুরু করে। গত মাসে প্রতি ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রার দর চার দশকের সর্বনিম্নে নেমে প্রায় ১৬৪ ইয়েন হয়েছিল। হস্তক্ষেপের পর তা শক্তিশালী হয়ে ১৫৫.২০-এ পৌঁছালেও সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বিপরীতে তা আবারও দুর্বল হয়ে ১৬০-এর সীমায় নেমে গেছে।

ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক নীতিগত বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ইয়েনের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বেসেন্টের এই মন্তব্য বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...