বিজ্ঞাপন
২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে অভিষেক হওয়া সেই তরুণ মেসির পথচলা ছিল একাধারে নাটকীয়, ট্র্যাজিক ও রূপকথার মতো। দেশের হয়ে রেকর্ড ২০৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমে ১২৫টি গোল করেছেন তিনি; যা আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোলের অবিসংবাদিত রেকর্ড। তবে শুধুই পরিসংখ্যান দিয়ে মেসির এই দুই দশকের সংগ্রাম ও মাহাত্ম্য তুলে ধরা অসম্ভব। একসময় জাতীয় দলের হয়ে একের পর এক ফাইনালে পরাজয় এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশার পাহাড়সম চাপের মুখে নিদারুণ সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরে গিয়ে একপর্যায়ে হতাশ হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।
কিন্তু একজন সত্যিকারের মহানায়কের মতো অসমাপ্ত স্বপ্নকে ছুঁতে আবারও ফিরে এসেছিলেন তিনি। সেই মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনের সোনালী ফসল আসে ২০২১ সালে, যখন ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা উঁচিয়ে ধরে আর্জেন্টিনার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ট্রফি খরা কাটান তিনি। এরপর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে হারিয়ে পূরণ করেন নিজের এবং কোটি মানুষের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা—বিশ্বকাপ ট্রফি জয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকাতেও তিনি আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দিয়ে নিজের সাফল্যের মুকুটকে আরও উজ্জ্বল করেন।
প্রতিটি গল্পেরই সমাপ্তি থাকে, আর ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলের অপ্রত্যাশিত হারের মধ্য দিয়েই জাতীয় দলের হয়ে মেসির ট্রফি ধরে রাখার অভিযানের শেষ হয়। বিশ্বকাপ জিতে রূপকথার সমাপ্তি না হলেও, ফুটবল ইতিহাসে তাঁর অর্জন চিরকাল অম্লান থাকবে। একটি বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা, ২০০৮ সালের অলিম্পিক স্বর্ণপদক, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং ব্যক্তিগত রেকর্ড আটটি ব্যালন ডি’অর জয়ের মাধ্যমে তিনি ফুটবলের সর্বকালের সেরা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ট্রফি ও রেকর্ডের বাইরে আর্জেন্টাইন ফুটবলকে আবার বিশ্বাস করতে শেখানো এবং পতনের পর উঠে দাঁড়ানোর সাহস জোগানোই মেসির সবচেয়ে বড় কীর্তি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...