বিজ্ঞাপন
কৈশোরে বাবা-মায়ের হাত ধরে বাঁশের কাজে হাতেখড়ি হয় শরদিদির। সংসারের তীব্র অভাব-অনটন দূর করতে শৈশবেই হাতে তুলে নেন ধারালো দা ও বাঁশ। সেই থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাঁশ ছিলে কুলা, ডালা, চালনি, ঝুড়ি (ঝাঁকা), ধানের ঢুলি ও মাছ রাখার খলই বানিয়ে আসছেন। বয়সের ভারে হাত কিছুটা কাঁপলেও তাঁর কাজের নিখুঁত কারুকাজ ও দক্ষতা কমেনি একটুও। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ির উঠানে বসে পরম যত্নে তৈরি করেন নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সরঞ্জাম। তাঁর তৈরি পণ্যের শক্ত বুনন ও টেকসই গুণের কারণে স্থানীয় হাটে এখনও বিশেষ সুনাম রয়েছে।
তবে কাঁচামাল বা বাঁশের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে প্লাস্টিক সামগ্রীর সস্তা বিকল্পের দাপটে আগের মতো লাভ হচ্ছে না বলে জানান শরদিদি। নিজের আক্ষেপ ও জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "আগে একটা বাঁশের দাম আছিল কম, বিক্রি করি লাভও হইতো ভালো। এ্যালা হাটে বাঁশের দাম অনেক বেশি, কিন্তুক কষ্ট করি বানালেও হামার বাঁশের জিনিসপত্র মানুষ আগের মতো খাবার চায় না। বাজারে প্লাস্টিকের কমদামী জিনিস আসি হামার পেটত লাথি মারছে। তাও বা বাপের আমলের ঐতিহ্য ছাড়ি নাই, এই কাম করেই তো জীবনের প্রায় পুরোটা পার করি দিনু।"
শরদিদির তৈরি পণ্য কিনে শহরের হাটে বিক্রি করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী কানাইলাল। তিনি জানান, আগে গৃহস্থদের কাছ থেকে ধান রাখা বা ধান ঝাড়ার কুলার আগাম বায়না পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে হাটে বসে থেকেও পণ্য বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে, অথচ পরিবেশবান্ধব হিসেবে এসব পণ্যের গুরুত্ব অপরিসীম।
নীলফামারী বিসিক (ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন) সূত্রে জানা গেছে, প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহারের কারণে প্রান্তিক কারিগররা কিছুটা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়লেও বাঁশশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন মেলা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শরদিদির মতো প্রবীণ ও দক্ষ কারিগরদের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করা গেলে জীবনের শেষ বয়সে তাঁরা স্বাবলম্বী হয়ে বাঁচতে পারবেন এবং একই সাথে বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ সংস্কৃতি ও এই লোকশিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...