বিজ্ঞাপন
আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, প্রতিটি ঘরে ঘরে এখন একই দুর্ভোগ ও হাহাকার বিরাজ করছে।
লোডশেডিং আর গ্যাসহীনতার এই চক্র যেন নগরবাসীর নিত্যদিনের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।রান্নাঘরে গ্যাস নেই, ঘরে ঘরে ক্ষোভ মহানগরীর চকবাজার, বহদ্দারহাট, জামালখান, হালিশহর ও বাকলিয়ার মতো জনবহুল এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই অধিকাংশ বাসাবাড়িতে গ্যাস থাকছে না। দুপুরের রান্নার জন্য সব ধরনের উপকরণ রেডি করে গৃহিণীরা যখন রান্নাঘরে যাচ্ছেন, তখনই দেখছেন চুলো জ্বলছে না। গ্যাসের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চুলোর পাশে।
অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে চড়া দামে কেনা খাবার বা এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের আয়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। ভুক্তভোগী এক গৃহিণী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সবজি-মাছ কেটে রেডি করে বসে আছি, কিন্তু চুলোয় গ্যাস নেই। প্রতিদিনের এই যন্ত্রণা আর সহ্য করা যাচ্ছে না।
"লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবনগ্যাসের এই সংকটের আগুনে ঘি ঢালছে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ। দিন কিংবা রাত—কোনো নিয়ম ছাড়াই হুটহাট চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ। বিশেষ করে দুপুরের তীব্র গরমে এবং রাতের ঘুমানোর সময়ে দীর্ঘমেয়াদি লোডশেডিং মানুষের শারীরিক ও মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অতিরিক্ত গরমে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং বয়স্কদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্থবির হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও।ব্যবসায় ও শিল্প খাতে ধসএই দ্বিমুখী সংকটের প্রভাব কেবল গৃহস্থালিতেই সীমাবদ্ধ নয়। চট্টগ্রামের ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও উৎপাদনমুখী শিল্পেও এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে লোকসানের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। দোকান ও শপিংমলগুলোতে জেনারেটর চালিয়ে বাড়তি খরচে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়ছে পণ্যের মূল্যের ওপর।
ভুক্তভোগীদের আকুতিসরেজমিনে পরিদর্শনের সময় ক্ষুব্ধ নগরবাসী জানান, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল প্রতি মাসেই নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে, অথচ সেবা পাওয়ার বেলায় তারা চরম বৈষম্যের শিকার। প্রয়োজনের সময় সেবা না পেয়ে সাধারণ মানুষ এখন ক্ষোভের শেষ সীমায় পৌঁছেছেন।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চট্টগ্রামের এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে এবং জনঅসন্তোষ আরও তীব্র রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
নগরবাসীর একটাই দাবি—দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এই জাঁতাকল থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হোক।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...