বিজ্ঞাপন
কলেজসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ থাকলেও পরে কলেজের দপ্তরি সরদার নুরু ইসলাম তালাটি খুলে দেন। তবে কার নির্দেশে কিংবা কী কারণে কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সরদার নুরুজ্জামান, দৈনিক আমার দেশের কাশিয়ানী উপজেলা প্রতিনিধি সোহানুর রহমান সোহান এবং কলেজের দপ্তরি সরদার নুরু ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। কে বা কারা তালা দিয়েছেন, সেটিও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে সরদার নুরুজ্জামানকে কলেজের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো লিখিত অনুমোদন বা নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরদার নুরুজ্জামান জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি কোনো চিঠি বা অনুমোদন পাননি। তবে হাইকোর্টে রিট করে স্থগিতাদেশ পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, হাইকোর্টে করা রিটের কারণে আগের কমিটির কার্যক্রমের বৈধতা বহাল রয়েছে। সে কারণে তিনি নিজেকে কলেজের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অধিকারী মনে করেন। সভাপতি হিসেবে তিনি কলেজের দুটি সভায় অংশ নিয়েছেন এবং তার স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে দুটি চেকের মাধ্যমে কলেজের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত অনুমোদন বা নিয়োগসংক্রান্ত কোনো নথি তিনি প্রতিবেদককে দেখাতে পারেননি।
কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কে এম মাহমুদ বলেন, সরদার নুরুজ্জামানকে সভাপতি হিসেবে গ্রহণের বিষয়ে শুরুতে তার আপত্তি ছিল। তবে হাইকোর্টের রিটের কপি দেখানোসহ বিভিন্ন ধরনের চাপের কারণে তাকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে বাধ্য হন তিনি।
তিনি জানান, ওই সময় কলেজে পরীক্ষা চলছিল এবং ব্যাংক হিসাব পরিচালনা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। হাইকোর্টের রিটের কপি দেখিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন না করার কথা জানানো হয়েছিল। এতে কলেজের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
কে এম মাহমুদের দাবি, তৎকালীন কমিটির কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত থাকায় পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে সরদার নুরুজ্জামানকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো লিখিত চিঠি তিনি পাননি।
তিনি আরও বলেন, পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তখন এক সপ্তাহের মধ্যে চিঠি দেওয়া হতে পারে বলে মৌখিকভাবে জানানো হলেও পরবর্তীতে কোনো লিখিত চিঠি বা নোটিশ পাওয়া যায়নি।
সরদার নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে চাপ, হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে দৈনিক আমার দেশের কাশিয়ানী উপজেলা প্রতিনিধি সোহানুর রহমান সোহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এই বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। আপনার যা মনে হয়, তা লিখে দেন।”
কলেজের দপ্তরি সরদার নুরু ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষের কক্ষে কে তালা দিয়েছেন, তা তিনি জানেন না। কোনো সিলগালা করা হয়নি এবং কোনো ফাইল বাড়িতে নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে নিরাপত্তার কারণে কিছু ফাইল অন্য একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল বলে জানান।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সেলিম তালুকদার বলেন, কলেজে এসে তিনি অধ্যক্ষের কার্যালয় তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে দপ্তরি নুরু ইসলাম তালাটি খুলে দেন। তবে কে তালা দিয়েছেন বা কী কারণে তালা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলতে পারেননি। ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেছে কি না এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও কলেজ কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...