Logo Logo

কাশিয়ানীতে পল্লী বিদ্যুতের স্বেচ্ছাচারিতায় গ্রাহক হয়রানি


Splash Image

ঘন ঘন লোডশেডিং, ভৌতিক ও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল প্রদান, মিটার রিডিংয়ে চরম অসঙ্গতি এবং সেবার নামে বেআইনি অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা।


বিজ্ঞাপন


গ্রাহকদের অভিযোগ, একদিকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের চরম অভাব, অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপেশাদার ও স্বেচ্ছাচারী আচরণে স্থানীয় গ্রাহকদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ গড়ে উঠেছে। দিন-রাত মিলিয়ে প্রতিদিন একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কাশিয়ানী সদর বাজারের স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম অভি জানান, তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তিনটি ফ্রিজ, দুটি ফ্যান ও পাঁচটি লাইট রয়েছে। সাধারণত প্রতি মাসে তাঁর বিদ্যুৎ বিল ৩,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে থাকে। অথচ মে, জুন ও জুলাই—এই তিন মাসের সমন্বিত বিল পাঠানো হয়েছে ৩৮,১৪৭ টাকা। অনাকাঙ্ক্ষিত এই অস্বাভাবিক বিলের কারণ জানতে ও প্রতিকার পেতে তিনি কাশিয়ানী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ধর্না দিলেও কোনো সুরাহা পাননি; বরং অস্বাভাবিক বিলটি পরিশোধ করার জন্য উল্টো তাকে চাপ দেওয়া হয়। ফলে ক্ষুব্ধ ও দিশেহারা হয়ে একপর্যায়ে তিনি ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

অনুরূপ অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলার হিরণ্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলামের কাছ থেকেও। তিনি জানান, এপ্রিল মাসে তাঁর মিটারে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ দেখানো হয় ৭০ ইউনিট। কিন্তু মে মাসে কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই ১৪০ ইউনিটের বিল তৈরি করা হয়। পরবর্তী জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাস তাঁর মিটারে রিডিং ‘শূন্য’ থাকা সত্ত্বেও প্রতি মাসে মনগড়াভাবে ১৪০ ইউনিট করে বিল পাঠানো হতে থাকে। বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে কোনো সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অনলাইনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারীরা তাঁর বাড়ির বিদ্যুৎ মিটারটি খুলে নিতে গেলে তিনি বাধার সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে সরকারি তদারকিতে বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে অবশেষে তাঁর বিদ্যুৎ বিল সমন্বয় করা হয়।

তাছাড়া, উপজেলার ওড়াকান্দি গ্রামে ইসরাফিল মোল্লা নামে এক গ্রাহকের বাড়িতে নিয়মবহির্ভূতভাবে খুঁটি স্থাপন ও বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই গ্রাহকের নিকটবর্তী সার্ভিস পোল থেকে বসতবাড়ির দূরত্ব ছিল প্রায় ১৩০ ফুট। প্রতিবেশীর বাধার কারণে সেখানে অতিরিক্ত খুঁটির প্রয়োজন হলে গ্রাহক রামদিয়া সাব-জোনাল অফিসে যোগাযোগ করেন। রামদিয়া অফিস থেকে ১ স্প্যান লাইন নির্মাণের খরচ বাবদ তাঁকে ২৮,১৪৮ টাকার ডিমান্ড নোট প্রদান করা হয়। তবে পরবর্তীতে রামদিয়া অফিসকে না জানিয়ে এবং সেখানে ডিমান্ড নোটের নির্ধারিত অর্থ জমা না দিয়ে, কাশিয়ানী অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে অবৈধভাবে খুঁটি স্থাপন করে সংযোগ প্রদান করেন। রামদিয়া অফিসের নথিপত্রে এই ২৮,১৪৮ টাকা জমা হওয়ার কোনো তথ্য নেই, যা স্পষ্টত কিছু অসাধু কর্মকর্তার পকেটস্থ হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।

এসব গুরুতর অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাশিয়ানী জোনাল অফিসের ডিজিএম গোলাম ফারুক মীর জানান, প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তবে ডিমান্ড নোটের টাকা জমা না হওয়ার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট গ্রাহক সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং বিধিসম্মত নিয়ম মেনেই বিদ্যুৎ সংযোগ লাভ করেছেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...