বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার পূর্ব মহারাজপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল মুকসুদপুরের পূর্ব মহারাজপুর এলাকায় আলামিনের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে ঘিরে ফেলে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর হেফাজত থেকে একটি ছোরা (চাইনিজ কুড়াল) ও দুটি ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু জব্দ করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলামিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া মালামালের তালিকায় রয়েছে ১৫টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, তিনটি আইফোন এবং সাতটি বাটন ফোনসহ মোট ২৫টি মুঠোফোন। এ ছাড়া চারটি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ট্যাব, ১০টি ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি, ১১টি মানিব্যাগ, নগদ এক লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন মূল্যমানের ৭৭টি বিদেশি নোট উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আলামিন স্বীকার করেন, তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে বিদেশফেরত যাত্রী ও তাঁদের স্বজনদের লক্ষ্য করে পথিমধ্যে সুযোগ বুঝে ব্যাগ ছিনতাই ও চুরির কাজ করতেন। চোরাই ও ছিনতাইকৃত এসব মালামাল তিনি এলাকায় নিয়ে এসে মজুত করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় দস্যুতা ও মাদক আইনে ইতোমধ্যে ছয়টি মামলা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ। ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।
পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ জানান, ছিনতাই চক্রের এই সদস্যকে রিমান্ডে এনে চক্রের বাকি হোতাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বিমানবন্দরগামী সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে কারা এ ধরনের অপরাধ চালাচ্ছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। গ্রেপ্তার আলামিনের বিরুদ্ধে নতুন করে অস্ত্র ও চোরাই মাল রাখার অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...