Logo Logo

বাকেরগঞ্জে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা, আতঙ্কে দিন কাটছে সাধারণ মানুষের


Splash Image

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, মাদকের বিস্তার, নারী নির্যাতন, পারিবারিক কলহ ও আর্থিক লেনদেনের জের ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিহিংসামূলক অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। এতে পুরো উপজেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটার পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর ক্ষোভ ও অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।


বিজ্ঞাপন


পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিগত ছয় মাসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদের জেরে একাধিক প্রাণহানি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত ৩১ মার্চ রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের লোচনাবাদ গ্রামে জমিসংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন কলেজছাত্র সাইদুল ইসলাম সজীব; পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এর কিছুদিন পর ১৫ মে গারুরিয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামে জমিতে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল হালিম হাওলাদার নামে এক বৃদ্ধ প্রাণ হারান।

হত্যাকাণ্ডের বাইরেও সহিংস হামলার মাত্রা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সম্প্রতি দুধল ইউনিয়নের মধ্য গোমা গ্রামে জমি বিরোধের জেরে একই পরিবারের নারীসহ চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। একইভাবে আগস্টের শেষ দিকে পাদ্রীশিবপুর গ্রামে জমি বিবাদের জেরে একটি প্রবাসী পরিবারের বৃদ্ধা নারী ও তার নাতির ওপর বর্বর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। এছাড়া সামাজিক অবক্ষয় ও পারিবারিক কলহের শিকার হচ্ছেন নারীরাও; গত ২৩ জুন কবাই ইউনিয়নের লক্ষ্মীপাশা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যৌতুকের নির্যাতনে দুই সন্তানের জননী রীমা আক্তারের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। একই ইউনিয়নের সরসী গ্রামের আরেক গৃহবধূ ঢাকার খিলগাঁওয়ে স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যান।

সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কবাই ইউনিয়নের কালেরকাঠি গ্রামের ফরাজি মার্কেট এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে সোহেল সিকদার নামে এক ভ্যানচালককে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে রাখা হয়। একের পর এক এমন নৃসংশতায় এলাকার সামাজিক সম্প্রীতি ভেঙে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার; হাত বাড়ালেই মিলছে মরণনেশা মাদকদ্রব্য, যা তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে তুলছে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ নিয়মিত টহল জোরদার করেছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে। একইসঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জেল ও জরিমানা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের অভিযানের পরও প্রভাবশালী অপরাধচক্রগুলো এলাকায় আধিপত্য বজায় রেখে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে চলেছে।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন জানান, যেকোনো ধরনের অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, অপরাধী যে দলের বা যে মতেরই হোক না কেন, তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...