ছবি : প্রতীকী এই ছবিটি এআই দ্বারা নির্মিত।
বিজ্ঞাপন
নিহত জলিল দৌলতপুর এলাকার দিলু মুন্সির ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত শুটার মাত্র কয়েক দিন আগেই অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়ে জামিনে বের হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে জলিল যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত কুলিবাগান আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে দিয়ে পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে তিন অস্ত্রধারী যুবক দ্রুতগতিতে এসে তার পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। দুটি গুলি জলিলের বুকের ডান পাশের ওপরের অংশে ও বাঁ পাশে বিদ্ধ হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পথেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের সময় পাশেই অবস্থান করছিল দৌলতপুর থানার পুলিশের একটি সিভিল টিম। গুলির শব্দ শুনে পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ধাওয়া দিলে দুই দুর্বৃত্ত দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে পালিয়ে যায়। তবে রাসেল নামে এক সহযোগী মোটরসাইকেলে উঠতে ব্যর্থ হয়ে পায়ে হেঁটে পাশের একটি বস্তির গলিতে ঢুকে আত্মগোপন করে। পুলিশ বস্তি এলাকায় তল্লাশি চালালেও তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করতে পারেনি।
দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "আমাদের একটি সিভিল টিম ঘটনাস্থলের পাশেই ছিল। গুলির শব্দ শুনে ধাওয়া করা হলে দুইজন মোটরসাইকেল নিয়ে চম্পট দেয়। মোটরসাইকেলে উঠতে না পারা রাসেল নামের যুবকটি বস্তির ভেতর দিয়ে পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।"
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত রাসেল মাত্র ১৫-২০ দিন আগে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। সম্প্রতি আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে সে এলাকায় ফিরে আসে। জামিনে বের হয়েই পূর্বশত্রুতা কিংবা আধিপত্য বিস্তারের জেরে সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। দিনের আলোতে এমন হত্যাকাণ্ডে পুরো দৌলতপুর এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...