বিজ্ঞাপন
বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দুতে মেসি কাটিয়েছেন নিজের জীবনের অন্যতম সোনালী অধ্যায়। সেই শহরের প্রতি গভীর আত্মিক টান থেকেই এবার ‘এসজেডি পেডিয়াট্রিক ক্যানসার সেন্টার’ নির্মাণে ২৬ লাখ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা কোটি কোটি টাকা) অনুদান প্রদান করেছেন তিনি। পুরো কেন্দ্রটি বাস্তবায়নে প্রায় ৩ কোটি ইউরো ব্যয় ধরা হয়েছে। ৫ হাজার ১৩৭ বর্গমিটারের এই বিশাল আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রতি বছর আনুমানিক ৪০০ ক্যানসারাক্রান্ত শিশুকে আন্তর্জাতিক মানের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের লড়াই অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল। সেই বাস্তবতা বিবেচনা করে একই ছাদের নিচে সব ধরনের বিশেষায়িত পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করাই এই হাসপাতালের মূল লক্ষ্য। রোগী ও তাদের পরিবারের মানসিক স্বস্তি এবং সঠিক চিকিৎসার স্বার্থে সমন্বিত ব্যবস্থা থাকবে এখানে। মেসি ফাউন্ডেশন ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের যৌথ উদ্যোগে স্বপ্নের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের প্রান্তিক শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিতে কাজ করছে মেসি ফাউন্ডেশন। স্পেনের এই উদ্যোগ ছাড়াও রক্তের ক্যানসার বা লিউকেমিয়া সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অর্থায়ন করছে সংস্থাটি। শুধু ইউরোপেই নয়, মেসির জন্মভূমি আর্জেন্টিনার রোজারিওতে স্থানীয় একটি হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং সুদূর আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকে শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণে খাদ্য কর্মসূচিতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে তার এই দাতব্য সংস্থা।
মেসির বিশ্বাস, খেলাধুলা কেবল শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় না, বরং সমাজ গড়ার হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করে। সেই লক্ষ্য থেকে খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মাঠ সংস্কার ও নতুন খেলার মাঠ তৈরি করে দিচ্ছে তার ফাউন্ডেশন। বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ তারকার এমন বহুমাত্রিক সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা শুধু ক্রীড়াবিদদের জন্যই নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্যই এক অনুপ্রেরণাদায়ী দৃষ্টান্ত।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...