বিজ্ঞাপন
সোমবার সকালে উপজেলার লালপুর বাজারে জামালগঞ্জ মিনি স্টোন ক্রাশার সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় শতাধিক ব্যবসায়ী ও শ্রমিক অংশ নেন। এ সময় অতিরিক্ত শুল্ক আদায় বন্ধ করে সরকারি নির্ধারিত হারে টোল আদায়ের দাবি জানান বক্তারা।
জামালগঞ্জ মিনি স্টোন ক্রাশার সমিতির সভাপতি হোসেন আহমদ লাল-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হক-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন সমিতির সদস্য ও পাথর ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন, লোকমান হোসেন, কবির হোসেন, নবী নূর, আমিরুল হক এবং বাংলাদেশ কার্গো বাল্কহেড সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমানসহ আরও অনেকে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মালামাল লোড-আনলোডের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে শুল্ক আদায়ের বিধান রয়েছে। কিন্তু জামালগঞ্জের বিভিন্ন ঘাটে পাথরসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে লোড ও আনলোড—দুই পর্যায়েই অতিরিক্ত হারে শুল্ক আদায় করা হচ্ছে।
তাদের দাবি, প্রতি ঘনফুটে ৫০ পয়সা হারে শুল্ক আদায়ের কথা থাকলেও বর্তমানে বিভিন্ন ঘাটে লোডের সময় প্রতি ঘনফুটে ২ টাকা ৮০ পয়সা এবং আনলোডের সময়ও একই হারে ২ টাকা ৮০ পয়সা করে আদায় করা হচ্ছে। ফলে লোড-আনলোড মিলিয়ে প্রতি ঘনফুটে মোট ৫ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত শুল্ক দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ব্যবসায়ীরা বলেন, নদীপথে পাথর, বালু ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টোলের কারণে পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। একদিকে পণ্যের বাজারমূল্য ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, অন্যদিকে অতিরিক্ত শুল্ক—সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত শুল্কের কারণে অনেক ব্যবসায়ী আগের মতো পণ্য পরিবহন করতে পারছেন না। এতে শুধু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, নদীপথের বাল্কহেড শ্রমিক, নৌযান চালক, ঘাট শ্রমিক, পাথর ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, জামালগঞ্জের নদীপথ ও ঘাটগুলোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। অতিরিক্ত শুল্ক আদায়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে স্থানীয় অর্থনীতিতে। তাই দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি নির্ধারিত হারে শুল্ক আদায়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
এ সময় বক্তারা অতিরিক্ত শুল্ক আদায় বন্ধ, নির্ধারিত হারে টোল আদায় এবং ঘাটগুলোতে শুল্ক আদায়ের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধন থেকে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অতিরিক্ত শুল্ক আদায়ের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামীতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...