Logo Logo

গড়াইয়ের ভাঙনে বিলীনের পথে কোদলা, আতঙ্কে ৫০০ পরিবার


Splash Image

মোঃ রাজিব হোসেন মাগুরা প্রতিনিধিঃ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের কোদলা গ্রামে গড়াই নদীর ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের ভাঙনে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।


বিজ্ঞাপন


একের পর এক জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

চোখের সামনে বছরের পর বছর চাষাবাদ করা ফসলের মাঠ নদীতে বিলীন হতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গ্রামের মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, ভাঙন অব্যাহত থাকায় আরও অন্তত ২০ একর ফসলি জমি এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় এসব জমিও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন নদীর পাড় রক্ষার বেড়িবাঁধ নিয়ে। ভাঙনের তীব্রতায় বেড়িবাঁধের কয়েকটি অংশ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাঁধের বড় অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বেড়িবাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে কোদলা গ্রামের প্রায় ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারে। তলিয়ে যেতে পারে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি। ফলে ভিটেমাটি হারানোর পাশাপাশি জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে কয়েকশ পরিবার।

৬৫ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা মোকাররম আলী বলেন,“নদীর পাড়েই আমার বাড়ি। একসময় এই এলাকায় অনেকের অনেক জায়গা-জমি ছিল। নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন বেড়িবাঁধের কাছে চলে এসেছে। আর অল্প কিছু অংশ ভেঙে গেলেই আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। তখন কীভাবে বাঁচব, সেটাই বুঝতে পারছি না।”

স্থানীয় বাসিন্দা অনিতা রাণী বলেন,“বিয়ের পর প্রায় ৩৫ বছর ধরে এই গ্রামে বসবাস করছি। একসময় এখানে মানুষ চাষাবাদ করত, গরু-ছাগল বাঁধত, ছেলেরা মাঠে খেলত। এখন সেই জায়গাগুলো নদীর মধ্যে চলে গেছে। প্রতিদিন চোখের সামনে সব হারিয়ে যেতে দেখছি।”

আরেক বাসিন্দা নাসিমা বেগম বলেন,“রাতে ভয়ে ঘুমাতে পারি না। সবসময় আতঙ্কে থাকি। ঘুমের মধ্যে কখন নদী বাড়িঘরের দিকে চলে আসে, সেই ভয় কাজ করে।”

স্থানীয়রা বলছেন, ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। শুধু সাময়িকভাবে বালুর বস্তা বা মাটি ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পরিবর্তে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সন্তোষ কর্মকার বলেন, “আমলসার ইউনিয়নের কোদলা এলাকার নদী ভাঙনের বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি। সেখানে কাজ করার অনুমতি পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে শুধু ফসলি জমি নয়, কোদলা গ্রামের বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও গড়াই নদীর ভাঙনের কবলে পড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই নদীভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ চান তারা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...