বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে মাগুরা পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, পাসপোর্ট করতে আসা সাধারণ আবেদনকারীদের অনেকেই বিভিন্ন কাগজপত্র ও তথ্যের অসঙ্গতি নিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন। বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও ইউনিয়ন পরিষদ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় দেখিয়ে আবেদনকারীদের একাধিকবার সংশোধন বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাধারণভাবে পাসপোর্টের আবেদন করতে গেলে বিভিন্ন ইস্যু দেখিয়ে ফাইলপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ অর্থ সরকারি নির্ধারিত ফি নয় বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তি বলেন, দালালচক্রের মাধ্যমে পাসপোর্টের কাজ করাতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে কাগজপত্রে সমস্যা থাকার পরও অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, দালালকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেওয়ার পর কাগজপত্রের নানা সমস্যা সহজেই সমাধান হয়ে যাচ্ছে।
হাসান মোল্যা বলেন, “নিজে পাসপোর্ট করতে গেলে একের পর এক সমস্যা দেখানো হয়। কিন্তু দালালের মাধ্যমে গেলে টাকা নেওয়ার পর অনেক সমস্যাই আর সমস্যা থাকে না।”
এ ধরনের অভিযোগের কারণে পাসপোর্ট করতে আসা সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট করতে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের জটিলতা তাদের বিদেশযাত্রার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে পারে।
সাধারণ আবেদনকারীদের প্রশ্ন—সরকারি নিয়ম মেনে পাসপোর্ট করতে গেলে যদি হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে দালালদের মাধ্যমে একই কাজ তুলনামূলক সহজে সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ কেন উঠছে?
অভিযোগ গুলোর বিষয়ে মাগুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে গেলে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এড়িয়ে যাই। সাধারণ মানুষের দাবি এই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। পাশাপাশি অফিস প্রাঙ্গণে দালালদের উৎপাত বন্ধ সাধারণ মানুষের হয়রানি নিরসনে এবং সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা অর্থ নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত দাবি করছেন তারা ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...