বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা টোল আদায় সংক্রান্ত জটিলতা, নৌযান শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
নৌযান শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) আওতাধীন ইজারাদার নৌপথে লোড-আনলোডের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ৫০ পয়সার পরিবর্তে ২ টাকা ৮০ পয়সা করে আদায় করছেন। ফলে লোড ও আনলোড মিলিয়ে প্রতি ইউনিটে মোট ৫ টাকা ৬০ পয়সা অতিরিক্ত টোল দিতে হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। এতে নৌযান মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেন তারা।
সভায় উপস্থিত শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বলেন, অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়টি নিয়ে তারা গত প্রায় তিন থেকে চার মাস ধরে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, প্রতিবাদ ও আন্দোলন করে আসছেন। সমস্যা সমাধানের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছেও একাধিকবার অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা প্রত্যাশিত সমাধান পাননি।
তারা আরও বলেন, ন্যায্য দাবি আদায়ে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগের পর বিএনপি নেতা মাসুম মাহমুদ তালুকদার, আজিজ আহমেদ ও মালেক মিয়ার দ্বারস্থ হন তারা। তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের দাবির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর একটি মহল ওই নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান সভায় উপস্থিত শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। পৃথক বক্তব্যে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মাসুম মাহমুদ তালুকদার, আজিজ আহমেদ ও মালেক মিয়ার নাম ব্যবহার করে একটি অসাধু ও স্বার্থান্বেষী মহল মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তুলে ব্যানার তৈরি করে মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। বিষয়টি তাদের নজরে আসার পর তারা বিস্মিত ও হতবাক হয়েছেন বলে দাবি করেন শ্রমিকরা।
তাদের দাবি, বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট ইজারার সঙ্গে ওই তিন ব্যক্তির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অথচ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের নাম জড়িয়ে বিভিন্ন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সভায় বক্তারা বলেন, নৌপথে অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারণে শুধু ব্যবসায়ী নয়, এর সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ও নৌযান মালিকরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে নির্ধারিত হারে টোল আদায়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী মোদক বলেন, টোল আদায় সংক্রান্ত বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি এখতিয়ারভুক্ত নয়। এটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) আওতাধীন বিষয়। তবে নৌযান শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সমস্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা পরিচালনার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আমিরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী নবী হোসেন, লাল মিয়া, রহম আলী, লোকমান হোসেন, বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রব,ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন, জয়ধর আলীসহ নৌযান শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় নৌযান শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগের সুরাহা এবং তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...