Logo Logo

মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণে ৭৫১ কোটি টাকার অনুমোদন দিল একনেক, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীকে অভিনন্দন


Splash Image

নোয়াখালীর উপকূলীয় জনপদের দীর্ঘদিনের নদীভাঙন, স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও বন্যা সংকট নিরসনে অবশেষে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও টেকসই পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তুলতে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত চলতি অর্থবছরের গুরুত্বপূর্ণ একনেক সভায় এ মেগা প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

দীর্ঘদিনের নদীভাঙন ও ভোগান্তি নিরসনের হাতছানি

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত এই সমন্বিত প্রকল্পটি নোয়াখালীর সার্বিক পরিবেশ ও উপকূলীয় অর্থনীতির সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী উদ্যোগ। প্রকল্পটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হলে কোম্পানীগঞ্জসহ উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের নদীভাঙনের আতঙ্ক দূর হবে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করে কৃষি জমি রক্ষা, লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ রোধ এবং মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট ভয়াবহ বন্যা, অতিবৃষ্টি ও উজানের তীব্র পাহাড়ি ঢলে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে অবস্থিত ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। রেগুলেটরটি ধসে পড়ার পর থেকেই ছোট ফেনী নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে তীব্র ভাঙন ও বারবার জলাবদ্ধতার মুখে পড়ে হাজারো মানুষ। উপকূলীয় অবকাঠামো রক্ষায় তখন থেকেই নতুন করে রেগুলেটর নির্মাণ ও নদী ব্যবস্থাপনার দাবি উঠছিল।

সর্বস্তরে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

বহুল প্রতীক্ষিত এ মেগা প্রকল্প অনুমোদনের সংবাদে কোম্পানীগঞ্জ ও নোয়াখালীবাসীর মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। প্রকল্প অনুমোদনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলামকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ।

প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন, "এই প্রকল্প নোয়াখালীর মানুষের প্রাণের দাবি ছিল। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধু উপকূলীয় দুর্যোগই থামবে না; বরং স্থানীয় কৃষি, মৎস্য উৎপাদন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো গুণগত মান বজায় রেখে যথাসময়ে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা।"

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন নকশায় আধুনিক ড্রেনেজ ও নদী শাসনের আওতায় মুছাপুর রেগুলেটরটি পুনর্নির্মিত হলে এটি শুধু পানি ব্যবস্থাপনাতেই নয়, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক চেহারা বদলে দিতেও প্রধান ভূমিকা পালন করবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...