বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে জামালগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ’র ইজারাদার, নৌযান মালিক-শ্রমিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে একটি মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য শোনার পাশাপাশি সরকারি গেজেট অনুযায়ী শুল্ক আদায়ের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত পরিচালক ইসমাইল হোসেন বলেন, ইজারাদারকে অবশ্যই সরকারি গেজেট অনুযায়ী নির্ধারিত হারে শুল্ক আদায় করতে হবে। কোনো চালানে মালামালের পরিমাণ মেট্রিক টনে উল্লেখ থাকলে সরকারি গেজেট অনুযায়ী প্রতি মেট্রিক টনে ৭০ টাকা শুল্ক আদায় করা যাবে। আর চালানে মালামালের পরিমাণ ঘনফুটে উল্লেখ থাকলে প্রতি ঘনফুট ৫০ পয়সা হারে শুল্ক আদায় করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত হারের বাইরে কোনো ধরনের অতিরিক্ত শুল্ক বা অর্থ আদায় করার সুযোগ নেই। পাশাপাশি চলন্ত অবস্থায় নৌযান থেকে শুল্ক বা টাকা আদায়ের কোনো বিধান নেই বলেও সভায় স্পষ্ট করেন তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নৌযান মালিক-শ্রমিকদের অভিযোগ, সম্প্রতি জামালগঞ্জের বিভিন্ন নদীপথে পণ্য পরিবহনের সময় সরকারি গেজেটে নির্ধারিত হারের তুলনায় বেশি শুল্ক আদায় করা হচ্ছিল। এ নিয়ে ব্যবসায়ী ও নৌযান শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অতিরিক্ত শুল্ক আদায় বন্ধ ও সরকারি নির্ধারিত হারে শুল্ক আদায়ের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন তারা।
এ সময় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে শুল্ক আদায়ের নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার ফলে তাদের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি নৌযান মালিক ও শ্রমিকরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ নিরসন এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক আদায় নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আলোচনা সভার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সভায় বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত পরিচালক ইসমাইল হোসেন সংশ্লিষ্ট ইজারাদারকে সরকারি গেজেটের নির্ধারিত হার অনুসরণ করে শুল্ক আদায়ের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী ও নৌযান মালিক-শ্রমিকরা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা সরকারি গেজেট অনুযায়ী নির্ধারিত হারে শুল্ক আদায় এবং নদীপথে নিয়মবহির্ভূত অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ’র সিলেট বিভাগের উপ-পরিচালক শহীদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপশ সীল, জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী মোদকসহ বিআইডব্লিউটিএ’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ইজারাদার, নৌযান মালিক-শ্রমিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, সরকারি গেজেট অনুযায়ী শুল্ক আদায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে জামালগঞ্জের নদীপথে অতিরিক্ত শুল্ক আদায়কে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের মধ্যে চলমান বিরোধের অবসান হবে এবং নৌপথে পণ্য পরিবহনে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...