বিজ্ঞাপন
পরে ওই ঘর থেকে একই পরিবারের ছয় সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সাতুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে রাজাপুর থানা পুলিশ।
অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া পরিবারের সদস্যরা হলেন—মো. মুনসুর সিকদার (৪৫), তার স্ত্রী পারভিন (৪০), মেয়ে ময়না আক্তার (২৭), ছেলে মো. ইয়াসিন (১৮), মুসা (১২) ও মো. ইসা (৯)।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ময়না আক্তার জানান, রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে খাবার খেয়ে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঘুমের মধ্যে তিনি টের পান, কেউ তার কানের দুল খুলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এ সময় চিৎকার দিলে ওই ব্যক্তি ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের ডাকাডাকি করেও কারও সাড়া পাননি ময়না। একপর্যায়ে তিনি ঘরের প্রধান দরজা খুলে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে তারা ঘরের পেছনে সিঁধ কাটা এবং ভেতরে থাকা মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান।
পরিবারের সদস্যদের ধারণা, চোর সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশের পর কোনো ধরনের চেতনানাশক পদার্থ ব্যবহার করায় তারা অচেতন হয়ে পড়েন। তবে ঘরে চেতনানাশক পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সোমবার সকালে পরিবারের ছয় সদস্যকে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখেন। পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসাধীন থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে চুরি যাওয়া মালামাল ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মেহজাবিন ফারহানা নিশা বলেন, অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা না গেলে তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...