বিজ্ঞাপন
সুইডিশ অ্যাকাডেমি জানিয়েছে, সমসাময়িক সাহিত্যে প্রাচীন ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরা এবং উদ্ভাবনী ও বৈচিত্র্যময় লেখার মাধ্যমে আধুনিক সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করার জন্য অ্যান কারসনকে এ বছরের নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
অ্যান কারসন ১৯৫০ সালে কানাডার টরেন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে ক্লাসিকসের ওপর তার ডক্টরিয়াল থিসিস ‘ওদি এত আমো এরগো সাম’ প্রকাশিত হয়। পুরো কর্মজীবনে তিনি কবিতা লেখা, অনুবাদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
কারসনের প্রায় সব সাহিত্যকর্মেই শব্দের প্রতি ভাষাবিদের গভীর মনোযোগ এবং নতুন অর্থ অনুসন্ধানে কবির আকুলতার এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা যায়। তিনি নিজেই বলেছেন, যেকোনো লেখা তৈরির ক্ষেত্রে শব্দের মূল উৎপত্তি বা উৎস খুঁজে বের করাই তার কাজের প্রথম পদক্ষেপ।
প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের যেসব গ্রন্থ তিনি অনুবাদ করেছেন, সেগুলোও স্বতন্ত্র সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রাচীন গ্রিক কবি সাপফোর অসমাপ্ত কবিতার সংকলন ‘ইফ নট, উইন্টার’ (২০০২), যা তিনি নিজের ভাষায় অনুবাদ করেছেন। এ ছাড়া রয়েছে সাপফোর বিয়োগান্তক নাটক ‘ইলেক্ট্রা’ (২০০১), ‘অ্যান্টিগন’ (২০১৫) এবং ইউরিপিডিসের ‘বাক্খাই’ (২০১৫)।
১৯৯০-এর দশকে কারসন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৯৯৫ সালের সংকলন ‘গ্লাস, আয়রনি অ্যান্ড গড’-এর ‘দ্য গ্লাস এসে’। এই সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন, ভিন্ন ভিন্ন লেখার ধরন ব্যবহারের মাধ্যমে একটি দীর্ঘ কবিতা কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
একই দশকে তিনি প্রকাশ করেন ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড: এ নভেল ইন ভার্স’ (১৯৯৮)। পাঠকদের কাছে এটিকে তার অন্যতম সেরা সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বইটিতে তিনি প্রাচীন একটি গল্পকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে জীবন্ত করে তুলেছেন। এতে খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের গ্রিক কবি স্টেসিকোরোসের কবিতার খণ্ডাংশ ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে জেরিয়ন নামে এক লাল দৈত্যের কথা বলা হয়েছে। প্রাচীন সাহিত্যকর্মের সঙ্গে আধুনিক ভাষা ও মানবিক অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন কারসন।
পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই লেখার নতুন ধারা অনুসন্ধান করেছেন তিনি। বিশেষ কিছু সৃষ্টির ক্ষেত্রে ছোট নোট থেকে শুরু করে কঠিন ও অসম্পূর্ণ ড্রাফট পর্যন্ত ব্যবহার করেছেন। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ ‘ফ্লোট’ (২০১৬)। এটি ২২টি ছোট পুস্তিকার একটি সংকলন, যা পাঠকেরা নিজেদের মতো করে পড়তে পারেন।
তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ ‘রং নর্মা’ (২০২৪)। এতে ভিন্ন ধরনের টেক্সট ব্যবহার করা হয়েছে, যা মঞ্চে উপস্থাপনযোগ্য। এর মাধ্যমে কারসন সাহিত্যকে চারুকলা ও অ্যাকাডেমিক গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত করেছেন।
এ ছাড়া অভিনেতা, নৃত্যশিল্পী, অপেরা পরিচালক এবং থিয়েটার পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছেন অ্যান কারসন। এসব কাজের মধ্য দিয়ে তিনি লেখার প্রচলিত পদ্ধতির গণ্ডির বাইরে যাওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এই বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিশীলতার কারণে ১৯৯০ সাল থেকে বৈশ্বিক শিল্প ও সাহিত্যে তার সাহিত্যকর্মের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
এদিকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নাম দীর্ঘ ৫০ বছর গোপন রাখে সুইডিশ অ্যাকাডেমি। ফলে কে এ পুরস্কার পেতে পারেন, তা আগে থেকে নিশ্চিতভাবে ধারণা করা কঠিন।
১৯০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১১৮ বার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ১২২ জন সাহিত্যিক এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন নারী। এ ছাড়া চারবার যৌথভাবে একাধিক ব্যক্তিকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...