Logo Logo

চট্টগ্রামে হকার পুনর্বাসনে ‘ফ্রাইডে ও স্যাটারডে মার্কেট’ চালুর প্রস্তাব


Splash Image

চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হকার উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ। যুগের পর যুগ ধরে চলা এই সংকটের স্থায়ী ও বাস্তবসম্মত সমাধানকল্পে এক যুগান্তকারী প্রস্তাব পেশ করেছেন শামসুজ্জামান হেলালি।


বিজ্ঞাপন


১২ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল স্কুল মাঠে তাফসির মাহফিলে বক্তব্যে বন্দরনগরীর হকারদের মানবিক ও টেকসই পুনর্বাসনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করতে গিয়ে তিনি নগরীতে পশ্চিমা বিশ্বের আদলে ‘ফ্রাইডে মার্কেট’ (শুক্রবার) ও ‘স্যাটারডে মার্কেট’ (শনিবার) চালুর করার পরামর্শ দিয়েছেন।

সম্প্রতি নগরীর হকারদের কর্মসংস্থান এবং ফুটপাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। শামসুজ্জামান হেলালি বলেন, "হকারদের শুধু উচ্ছেদ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। কারণ এর সাথে লাখো মানুষের রুটি-রুজি এবং কোটি কোটি টাকার প্রান্তিক অর্থনীতি জড়িত। আমাদের এমন একটি পথ বের করতে হবে যাতে হকারদের জীবিকাও বাঁচবে, আবার নগরবাসীও যানজট ও ফুটপাত দখলের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।"

উন্নত ও উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশের ‘উইকএন্ড মার্কেট’ বা সাপ্তাহিক বাজারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সপ্তাহে নির্দিষ্ট ছুটির দিনগুলোতে (শুক্র ও শনিবার) নগরীর নির্ধারিত কিছু প্রশস্ত এলাকা বা সড়ককে সাময়িকভাবে হকারদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া যেতে পারে। এই নির্দিষ্ট সময়ে হকাররা তাদের পণ্য সম্ভার নিয়ে বসবেন, যেখানে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে কেনাকাটার সুযোগ পাবেন। ছুটির দিন শেষে সেই সড়কগুলো আবার পরিষ্কার করে দেওয়া হবে। এর ফলে সপ্তাহের বাকি পাঁচ দিন নগরীর প্রধান সড়ক ও ফুটপাতগুলো থাকবে সম্পূর্ণ হকারমুক্ত, যানজটহীন ও পথচারীবান্ধব।

শামসুজ্জামান হেলালি তার বক্তব্যে এই উদ্যোগ সফল করতে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়নের দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-কে যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকৃত হকারদের একটি নির্ভুল ডাটাবেজ বা তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর তাদের জন্য নির্দিষ্ট জোন বা এলাকা এবং সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে ডিজিটাল কার্ড বা লাইসেন্স প্রদান করা যেতে পারে। এতে করে চাঁদাবাজি ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, "পরিকল্পিত পুনর্বাসন ছাড়া জোরপূর্বক উচ্ছেদ প্রক্রিয়া অতীতেও ব্যর্থ হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে মাথায় রেখে ‘ফ্রাইডে ও স্যাটারডে মার্কেট’ ব্যবস্থার মতো আধুনিক ধারণাকে আমাদের গ্রহণ করতে হবে।"

বন্দরনগরীর সুশীল সমাজ এবং সাধারণ ব্যবসায়ী মহলেও শামসুজ্জামান হেলালির এই প্রস্তাবটি বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে এই মডেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও হকার-বান্ধব আদর্শ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...