বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির একটি গাছ থেকে সুপারি পাড়েন মজিবুল ইসলাম। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে ছোট ভাই রবিউল ইসলামের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পরিবারের সদস্যরা লাঠিসোঁটা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সে সময় ছোট ভাই রবিউল ইসলামের বেপরোয়া লাঠির আঘাতে মজিবুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী ও সন্তান রক্তাক্ত জখম হন।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মজিবুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আহত স্ত্রী ও সন্তানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাঁর স্ত্রী মিলি খাতুনকে আটকে রেখে থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
গ্রামাঞ্চলে তুচ্ছ জমিজমা কিংবা গাছপালার ফল পাড়াকে কেন্দ্র করে আপন ভাই-স্বজনদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও প্রাণহানির ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সামান্য অর্থনৈতিক স্বার্থ ও পারিবারিক অসহিষ্ণুতার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ঝিনাইদহের এই হত্যাকাণ্ডটি স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, তুচ্ছ ঘটনায় ভাইয়ের লাঠির আঘাতেই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের হাতে আটক অভিযুক্তের স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার পর থেকে পলাতক প্রধান অভিযুক্ত রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তারে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...