বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, টানা বৃষ্টির মধ্যেই প্যান্ডেলে অতিরিক্ত মানুষের ভিড় জমে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে পদদলনের ঘটনা ঘটে এবং এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিনয় কুমার নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ক্রমাগত বৃষ্টিই পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। বৃষ্টির কারণে প্যান্ডেলে থাকা অনেক মানুষ বাইরে বের হতে চাইছিলেন না। একই সময়ে আরও মানুষ প্যান্ডেলে প্রবেশ করায় সেখানে তীব্র চাপাচাপির সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, “মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে ক্রমাগত বৃষ্টির কারণে। প্যান্ডেলে অতিরিক্ত মানুষ ছিলেন। বৃষ্টির কারণে ওই মানুষগুলো আর সেখান থেকে বের হতে চাননি। এর মধ্যে আরও মানুষ প্যান্ডেলে ঢুকলে চাপাচাপি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ প্রশাসন সেখানে পুরোপুরি সক্রিয় ছিল। কিন্তু তারা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্যান্ডেল কমিটির পক্ষ থেকে বারবার মানুষকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে ঘোষণা দেওয়া হয়, অতিরিক্ত মানুষ অবস্থান করলে প্যান্ডেল ভেঙে পড়তে পারে। এই ঘোষণার পর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এরপরই পদদলনের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর; অন্যদের অবস্থা স্থিতিশীল।
নিহতদের পরিবারের জন্য ২৫ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রতিটি নিহতের পরিবারের একজন সদস্যকে ডি-গ্রেডের সরকারি চাকরি দেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আহতদের প্রত্যেককে ৫ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীও প্যান্ডেল কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া ওই ঘোষণার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, যে ঘোষণার পরই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়ে পদদলনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এদিকে, মর্মান্তিক এই ঘটনায় পূজা প্যান্ডেল কমিটির সদস্যসহ মোট ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর দুর্ঘটনার কারণ, ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...