Logo Logo

নীলফামারীতে ১১৭ বছরের ঐতিহ্য— বাগডোকরার ‘বউ মেলা’


Splash Image

পূজার উৎসব, কেনাকাটা আর প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলন—সব মিলিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বাগডোকরা নিমোজখানা মাঠ। শাশুড়ির হাত ধরে মেলায় এসেছেন পুত্রবধূরা। কেউ ব্যস্ত কেনাকাটায়, কেউ গল্প-আড্ডায়; আবার কেউবা বহুদিন পর দেখা পাওয়া স্বজনদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন আনন্দের মুহূর্ত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই মিলনমেলার নাম ‘বউ মেলা’।


বিজ্ঞাপন


গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) দুর্গোৎসব উপলক্ষে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১১৭ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এই ‘বউ মেলা’। প্রতি বছর দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর রাতে বাগডোকরা নিমোজখানা মাঠে বসে এ মেলা। দূরদূরান্ত থেকে স্বজনদের টানে ছুটে আসেন নানা বয়সী মানুষ। কেনাকাটার পাশাপাশি চলে আনন্দ-উল্লাস, গল্প-আড্ডা এবং পারিবারিক ও সামাজিক সৌহার্দ্য বিনিময়।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণ পর্যন্ত সব বয়সী মানুষের পদচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। বিশেষ করে শাশুড়ি ও পুত্রবধূদের একসঙ্গে মেলায় আসার দৃশ্য মেলাটিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। পোশাক, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য কেনাকাটার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও পুরোনো পরিচিতদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতে উৎসবের আমেজ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

মেলায় আসা স্থানীয় গৃহবধূ সুচরিতা রায় বলেন, “বউ মেলার মাধ্যমে বহু পুরোনো পরিচিত ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা আত্মীয়দের সঙ্গে বহুদিন পর দেখা হওয়ায় খুব আনন্দ লাগছে। এই ধরনের আয়োজন আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনকে আরও গভীর করে তোলে।”

প্রথমবারের মতো মেলায় আসা নববধূ দীপা রানী বলেন, “শাশুড়ি মায়ের সঙ্গে প্রথমবারের মতো এই মেলায় এসে আমার খুব ভালো লাগছে। আমরা দুজন মিলে একে অপরের পছন্দমতো বিভিন্ন পোশাক ও গৃহস্থালি জিনিসপত্র কিনে দিয়েছি।”

উৎসব প্রাঙ্গণে আসা দর্শনার্থী কমল রায় বলেন, “প্রতিমা বিসর্জনের পর এমনিতেই মনটা খারাপ হয়ে যায়। তবে এমন একটি আয়োজনে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আসতে পেরে সব বিষাদ ভুলে গেছি। কেনাকাটা, খাওয়া-দাওয়া আর পুরোনো পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলে খুব ভালো সময় কাটল।”

নিমোজখানা সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি ভবতোষ চন্দ বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকে প্রায় ১১৭ বছর ধরে এই মেলাটি নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বউ মেলা মূলত পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের এক অপূর্ব মিলনমেলায় পরিণত হয়। মেলাটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন সব সময় সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে।”

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়া এই ঐতিহ্য আজও তার স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রেখেছে। বাগডোকরা নিমোজখানার ‘বউ মেলা’ তাই কেবল কেনাকাটা কিংবা বিনোদনের আয়োজন নয়; এটি পরিবার, আত্মীয়তা ও সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার এক অনন্য উপলক্ষ। উৎসবের আনন্দে একত্রিত মানুষের মিলনমুখর উপস্থিতিই যেন ১১৭ বছরের এই ঐতিহ্যকে আজও জীবন্ত করে রেখেছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...