Logo Logo

মহানবমীর উৎসবের রাতেই নেমে এলো ঘোর অন্ধকার: নিখোঁজের পর নদী থেকে মিলল ৯ বছরের শিশু অদিতির নিথর দেহ!


Splash Image

চারপাশে ঢাকের বাদ্য, কাঁসর-ঘণ্টা আর শঙ্খধ্বনিতে যখন মুখরিত পূজামণ্ডপ, উৎসবের আলোকচ্ছটায় যখন উদ্ভাসিত চারপাশ—ঠিক তখনই সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে নেমে এসেছে নিস্তব্ধ শোকের কালো ছায়া। মহানবমীর আনন্দঘন মুহূর্তে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর গ্রামের পাশের নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৯ বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশু অদিতি রায় ঐতির নিথর মরদেহ। মণ্ডপের আনন্দধ্বনি মুহূর্তেই রূপ নিয়েছে স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে।


বিজ্ঞাপন


নিহত অদিতি রায় ঐতি জামালগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মনোজ রায় ও রুবি রায় দম্পতির একমাত্র নয়নমণি। যে বয়সে নতুন পোশাকে পূজামণ্ডপে ছুটে বেড়ানো ও সহপাঠীদের সঙ্গে হাসি-খেলায় মেতে ওঠার কথা, সেই বয়সেই তার এমন করুণ অকালবিদায়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমীর দিন আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে হঠাৎ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু অদিতি। দীর্ঘক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন বাড়ির আশপাশ, প্রতিবেশীদের আঙিনা ও সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও কোনো হদিস না পেয়ে আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাতভর চলে তল্লাশি। সন্তান ফিরে পাওয়ার বুকভরা আশা নিয়ে রাত জেগে অপেক্ষা করছিলেন মা-বাবা। কিন্তু ভোর হতেই সেই আশা পরিণত হয় চরম দুঃস্বপ্নে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক সোয়া ৫টার দিকে গ্রামের পাশের নদীতে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। কাছে গিয়ে দেখা যায়, এটি নিখোঁজ অদিতিরই নিথর দেহ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই নদীর পাড়ে কান্নার রোল পড়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে ঠিক কীভাবে শিশুটি নদীতে গেল কিংবা মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এদিকে মর্মান্তিক এ ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার সকাল ৯টার দিকে নিহতের বাড়িতে ছুটে যান জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুব্রত সামন্ত সরকার এবং ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার রায়। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা শোকসন্তপ্ত বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেন এবং তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শারদীয় দুর্গোৎসবের বিদায়লগ্নে দুর্গাপুরের এই পরিবারে নেমে আসা হৃদয়বিদারক শূন্যতা শুধু একটি পরিবারকেই নয়, কাঁদিয়েছে আশপাশের সব ধর্ম-বর্ণের মানুষকেও।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...