বিজ্ঞাপন
নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে এটিই শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। পাশাপাশি বিশ্ব ক্রিকেটেও এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার কীর্তি। এর আগে ২০০৬ সালে ৪৩৫ রান তাড়া করে ইতিহাস গড়েছিল প্রোটিয়ারা; ঠিক ১৮ বছর পর এবার সেই কীর্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেল শ্রীলঙ্কা। তবে এই অবিস্মরণীয় জয়ের শুরুটা কিন্তু একেবারেই ভালো ছিল না লঙ্কানদের। ৪৩০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২৪ রানেই সাজঘরে ফেরেন দুই নির্ভরযোগ্য টপ-অর্ডার ব্যাটার। কামিন্দু মেন্ডিস ১৮ রান করে বিদায় নেওয়ার পর এক বলও না খেলে রানআউটের দুর্ভাগ্যে কাটা পড়েন অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস।
শুরুর সেই মহাবিপর্যয় একাই সামাল দেন ওপেনার আভিস্কা ফার্নান্দো ও পবন রত্নায়েক। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৬৬ রান যোগ করে ম্যাচকে পুরোপুরি ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনেন এই দুজন। দুর্দান্ত ব্যাট করা আভিস্কা মাত্র ৩ রানের আক্ষেপ নিয়ে ৮৩ বলে ৯৭ রানে আউট হলেও অবিচল ছিলেন তরুণ রত্নায়েক। এরপর চতুর্থ উইকেটে দাসুন শানাকাকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। মাত্র ৭৯ বলে গড়ে তোলেন ১৩৩ রানের আগ্রাসী পার্টনারশিপ। রত্নায়েক তুলে নেন রাজকীয় সেঞ্চুরি; ১০৬ বলে ১৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় খেলেন ১৩০ রানের ঝলমলে ইনিংস। অন্যদিকে শানাকা মাত্র ৫০ বলে ৬ চার ও ৮ ছক্কার ঝড়ে ৯৭ রানের এক সাইক্লোন ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন।
দুই সেট ব্যাটারের বিদায়ের পর দ্রুত রান তুলতে গিয়ে শেষ ওভারে চরম নাটকীয়তার জন্ম হয়। ইংল্যান্ডের পেসার জশ টাং দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে টানা দুই উইকেট তুলে নিলে হারের শঙ্কা চেপে বসে লঙ্কান শিবিরে। সমীকরণ দাঁড়ায় শেষ ২ বলে দরকার ৬ রান। ঠিক তখনই জয়ের নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন জানিথ লিয়াঙ্গে। পঞ্চম বলে বাউন্ডারির বাইরে বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে উল্লাসে ভাসান দলকে। অপরাজিত থাকেন মাত্র ২৭ বলে ৬০ রানের এক অবিশ্বাস্য ফিনিশিং ইনিংসে।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রানের পাহাড় গড়েছিল ইংলিশরা। উদ্বোধনী জুটিতে টম ব্যান্টন (৫০) ও তার সঙ্গীর ৭৪ রানের পর ওয়ানডাউনে নেমে ফিফটি তুলে নেন জো রুট (৬৯)। তবে মূল ঝড়টি শুরু হয় এর পরেই। তরুণ ব্যাটার উইল জ্যাকসকে সঙ্গে নিয়ে লঙ্কান বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। মাত্র ৭৭ বলে এই জুটিতে আসে ১৮৫ রান। একপর্যায়ে মাত্র ১১৪ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করেন ব্রুক। শেষ বলে আউট হওয়ার আগে খেলেন ১১৬ বলে ২০২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। সঙ্গী জ্যাকস অপরাজিত থাকেন ৩০ বলে ৬৬ রানে। দলীয় ৫০ ওভারে ইংল্যান্ড তোলে ৪২৯ রান। কিন্তু ব্রুকের সেই মহাকাব্যকেও শেষ পর্যন্ত ম্লান করে দিল লঙ্কানদের অদম্য ব্যাটিং সংকল্প।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...