বিজ্ঞাপন
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর দুরাকুটি (পশ্চিম পাড়া) এলাকার নিষিদ্ধ দাদন ব্যবসায়ী ও আওয়ামী যুবলীগ সদস্য মো. রিপন মিয়ার দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় নীলফামারী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ভুক্তভোগী পরিবারবর্গের আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, এলাকার চিহ্নিত দাদন ব্যবসায়ী ও আওয়ামী যুবলীগ সদস্য মো. রিপন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দাদন ব্যবসা পরিচালনা করে সাধারণ মানুষের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়ে আসছেন। শুধু নির্দিষ্ট কয়েকজনই নন, ওই এলাকার অনেক পরিবার এই সুদের কারবার ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁর এই অবৈধ কার্যক্রমের প্রতিবাদ করা এবং প্রতিকার চাওয়ায় উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতিবাদী পরিবারের সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
সংযুক্ত ৪৫টি মামলার তালিকাসহ ভুক্তভোগী পরিবারসমূহ ও এলাকাবাসী জানায়, রিপন মিয়ার দাদন ব্যবসা ও অন্যায্য চক্রান্তে বহু পরিবার আজ পথে বসার উপক্রম হয়েছে। অনেকে বাড়িভিটা ও সহায়-সম্পদ হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী প্রভাষক মো. সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে তিনি রিপনের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করা সত্ত্বেও রিপন তাঁর বিরুদ্ধে ৭ লাখ টাকার মিথ্যা মামলা ঠুকে দেন। এছাড়া প্রভাষক সাইফুলের ২০টি খালি চেক ও ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প এখনও রিপনের জিম্মায় রয়েছে।
একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন এলাকার কৃষক আনিছুর আরেফিন। তিনি রিপনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পরবর্তীতে পুরো ৫০ হাজার টাকাই পরিশোধ করেন। অথচ তাঁর বিরুদ্ধেও ৭ লাখ টাকার মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে কৃষক নেছার আহমেদ মজুমদার ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৪৮ হাজার টাকা পরিশোধ করা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকার মামলা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এলাকার আরও অনেক সাধারণ মানুষ তাঁর খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অবিলম্বে এই নিষিদ্ধ দাদন ব্যবসায়ী মো. রিপনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের নামে দেওয়া সব মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...