বিজ্ঞাপন
রোববার (১ নভেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ তার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। শুনানি শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ধারাগুলোর মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সবই জামিনযোগ্য। এ ছাড়া তার বয়স ৭৩ বছর, তিনি দুবার সংসদ সদস্য ছিলেন এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন।
শিশির মনির বলেন, ‘আমরা আশা করছি, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে আদালতের প্রক্রিয়া শেষ করে জামিনের আদেশ নিম্ন আদালতে পৌঁছাবে। কারাগারে যাওয়ার পর আইন অনুযায়ী তিনি মুক্তি পাবেন বলে প্রত্যাশা করছি।’
জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে এই আইনজীবী আরও বলেন, আখতারুজ্জামান প্রায় এক মাস কারাভোগ করেছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারায় জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তার বয়স, সামাজিক অবস্থান ও মামলার ধারাগুলো সেই বিবেচনার মধ্যে পড়ে। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে মামলার এজাহার পড়ে শোনায় এবং তার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ রয়েছে বলে আদালতকে জানায়।
তবে ঘটনার বিষয়ে শিশির মনির বলেন, বিমানবন্দরের ওই দিনের ঘটনার ভিডিও সিসিটিভি ক্যামেরা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে। সেখানে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে, তবে এর বাইরে অন্য কোনো ঘটনা তারা স্বচক্ষে দেখেননি। তার ভাষায়, আদালত সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে একজন প্রবীণ ব্যক্তিকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন শিশির মনির। তিনি বলেন, বিমানবন্দরের পরিবেশ ও সেবার মান উন্নত হওয়া সবার প্রত্যাশা। সরকার ইতোমধ্যে বিমানবন্দরের কার্যক্রম আধুনিকায়নে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দিয়েছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। লাগেজ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কার্যক্রম এখন ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে। এর আগে গত ৪ অক্টোবর রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত তা খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তার আইনজীবীরা হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন।
গত ২ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব।
গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা থেকে ঢাকায় ফেরেন। তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ইমিগ্রেশন শেষে যাত্রীরা লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর বেল্ট এলাকায় যান।
এজাহারে আরও বলা হয়, ওই সময় যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ট্রলি সংগ্রহে সাময়িক সংকট দেখা দেয় এবং দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম না মেনে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে লাগেজ পেতে দেরি হওয়া এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যাত্রী উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...